আগামী অর্থবছর (২০২৬-২৭) থেকে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার কার্ড এবং ধর্মীয় ভাতার জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত এডিপি খসড়ায় তিনটি কর্মসূচির জন্য পৃথক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি, ফারমার কার্ডের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি, মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের সম্মানির জন্য ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠক এবং তার আগে শনিবারের বর্ধিত কমিশন সভার পর ৩ লাখ কোটি টাকার প্রস্তাবিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা দেশি উৎস এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এডিপিতে সমাজকল্যাণ, কৃষি ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিনটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মোট বরাদ্দের প্রায় ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য এস এম শাকিল আখতার বলেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা’ তহবিলের আওতায় অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর অর্থায়নও অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ, আয় হ্রাস এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপের মুখে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান টিকিয়ে রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের ইশতেহারে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রস্তাবিত ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দের আওতায় প্রায় ৪৮ লাখ ৩০ হাজার পরিবার সুবিধা পাবে বলে পরিকল্পনা কমিশনের হিসাব বলছে। গড় পরিবার সদস্যসংখ্যা ৪ দশমিক ২৬ ধরে এতে প্রায় ২ কোটি ৫৯ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শুরু করেছে। একইভাবে ফারমার কার্ড কর্মসূচির আওতায়ও পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচিতে কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভার জন্য প্রস্তুত সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে, নতুন এডিপি নির্বাচনি ইশতেহারের পাঁচটি মূল অগ্রাধিকার কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো সমন্বিত রাষ্ট্র সংস্কার, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংহতি। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, সম্প্রসারিত সামাজিক সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে।