পাঁচ মাস বয়সি আরিয়ান হোসেনকে হামের উপসর্গ নিয়ে এক সপ্তাহ আগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক জানালেন, তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) জরুরি। স্বজনরা যোগাযোগ করলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। কিন্তু মিলল না ‘সোনার হরিণ’খ্যাত একটি পিআইসিইউ। এখন অপেক্ষায় একটি শয্যার। আরিয়ানের হতদরিদ্র বাবা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমার সন্তানের হামের উপসর্গসহ নানা সমস্যা আছে। চিকিৎসক আইসিইউর জন্য বলছেন। কিন্তু তা আমরা পাইনি। এখন চমেক হাসপাতালে একটি আইসিইউ শয্যার অপেক্ষায় আছি।
২০২০ সালে বৈশি^ক মহামারির সময় একটি আইসিইউ শয্যা হন্যে হয়ে খুঁজছিল রোগীর স্বজনরা। কোথাও মেলেনি। এমনকি মাকে আইসিইউ শয্যা থেকে নামিয়ে সন্তানকে ভর্তি করার মতো মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনারও সাক্ষী এই চট্টগ্রাম। এখন ছয় বছর পর আবারও একই ঘটনার অবতারণা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত শিশুদের দীর্ঘদিন পিআইসিইউতে রাখতে হচ্ছে। ফলে পিআইসিইউ সংকট তীব্র হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই বিভাগের শিশুদের জন্য ২০টি পিআইসিইউ শয্যা আছে। এর মধ্যে ১৫টি শয্যা হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটিতে অন্যান্য রোগী ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাম সংক্রমণের সময়ে শয্যার দ্বিগুণ সংকটাপন্ন শিশু রোগী পিআইসিইউ শয্যার জন্য অপেক্ষা করছে। বর্তমানে হাসপাতালের নিচতলার ১ নম্বর ক্যাজুয়ালিটির ৫০ শয্যার পৃথক ব্লকে হাম রোগীর চিকিৎসা চলছে। কিন্তু এখানেও প্রতিনিয়তই ভর্তি থাকে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী। ফলে এক শয্যায় দুই থেকে তিনজনকেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তাছাড়া, হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ৬০ লিটার পর্যন্ত হাইফ্লো ন্যাজেল ক্যানেলা প্রয়োজন হচ্ছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, করোনাকালীন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার আমরা দেখেছি। সেটি এখনো আমাদের স্মৃতিতে ভাস্বর। এখন হাম পরিস্থিতিও করোনার চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। চমেক হাসপাতলের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, প্রতিনিয়তই হামের উপসর্গের রোগী বাড়ছে। ৫০ শয্যায় ৭০ থেকে ৮০ জন ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আবার সংকটাপন্ন কিছু রোগীর জন্য পিআইসিইউ শয্যার দরকার হয়। এখানেও সংকট। তবুও চেষ্টা করি বিদ্যমান সীমিতা ব্যবস্থাপনা দিয়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে। কোনো রোগীকে ফেরানো হয় না।