Headline :

প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ভারতের, দাবি রিপোর্টে

Reporter Name / ১৫৫ Time View
Update : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)।

সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে।

বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি জানায়, এতদিন ভারত পারমাণবিক ওয়ারহেড ও তাদের বহনকারী ব্যবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতো। অর্থাৎ শান্তিকালীন সময়ে যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে সংযুক্ত রাখা হতো না। তবে নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রথমবার ভারতের কিছু পারমাণবিক অস্ত্রকে অপারেশনালভাবে মোতায়েন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা পূর্বের ‘শুধু মজুত’ অবস্থান থেকে একটি বড় পরিবর্তন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তুত-ব্যবহারযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র যদি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো বা নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে স্থাপন করা হয়, তবে তা উচ্চতর সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত বহন করে। সিপ্রির তথ্যানুযায়ী, এই ১২টি ওয়ারহেড প্রথমবারের মতো ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র বা নৌ-ভিত্তিক বাহনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, অথবা অপারেশনাল বাহিনীর ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক বছরে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে সামান্য বৃদ্ধি ঘটেছে। একই সঙ্গে কিছু ওয়ারহেড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) মোতায়েন করা হয়েছে এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালিত হয়েছে।

সিপ্রি বলেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি। এই অস্ত্রগুলো ভারতের ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশপথে বহনযোগ্য বোমা ও পারমাণবিক সাবমেরিন- এই তিনটি সক্ষমতার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এতদিন ধরে ধারণা করা হতো যে, ভারত শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো তাদের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার থেকে আলাদা করে রাখে। কিন্তু সাম্প্রতিক পদক্ষেপ- যেমন ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও সমুদ্রভিত্তিক টহল- ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত হয়তো কিছু ওয়ারহেডকে শান্তিকালেও তাদের লঞ্চারগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

তবে ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’অনুসরণ করে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারত কখনও প্রথমে পারমাণবিক হামলা ব্যবহার করবে না এবং কেবলমাত্র নিজেদের ভূখণ্ড বা বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে প্রতিশোধমূলক ব্যবহারের জন্য এই অস্ত্র ব্যবহার করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিপ্রির এই পর্যবেক্ষণ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। যদিও ভারত দাবি করে তার পারমাণবিক সক্ষমতা কেবল প্রতিরোধমূলক, তবুও নতুন মোতায়েনের ইঙ্গিত সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বাড়ার দিকেই ইঙ্গিত করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri cURL Hatası: OpenSSL SSL_connect: SSL_ERROR_SYSCALL in connection to lkl.dolarkurum.com:443
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri cURL Hatası: OpenSSL SSL_connect: SSL_ERROR_SYSCALL in connection to lkl.dolarkurum.com:443