Headline :

প্রত্যাশা পূরণের অপেক্ষায়

Reporter Name / ১ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে চলেছে দেশ। শুরু হয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার। সংবিধান সংশোধনে কাজ শুরু করেছে বিশেষ কমিটি। পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে ভঙ্গুর অর্থনীতির। তবে অভ্যুত্থানের দুই বছর পরও নিহত ব্যক্তিদের পরিবার আজও পূর্ণাঙ্গ সম্মান পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই বছরে অগ্রগতি আছে। তবে প্রত্যাশা অনেক। সব পূরণে আরও সময় প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী ওয়াদা পূরণের দিকেই অগ্রসর হচ্ছেন।

সরকারি তিতুমীর কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষের শিক্ষর্থী ছিলেন শহীদ শেখ ফাহমিন জাফর (১৮)। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরার আজমপুরে একটি শপিং মলের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ফাহমিনের মৃত্যু হয়। তাঁর বাবা শেখ আবু জাফর (৬৮) একটি বিমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আর মা কাজী লুলুল মাখমিন (৪৮) গৃহিণী। ফাহমিনের মা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএনপি সরকারের ওপর ভরসা নিয়েই বলছি, আমরা অপেক্ষায় আছি। সন্তান হারিয়েছি। নতুন সরকার নিশ্চয়ই আমাদের দিকটা বিবেচনা করবে। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনে নিহতদের খুনের বিচার করবেন। তবে এখন পর্যন্ত শহীদ হিসেবে আমার সন্তান রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ সম্মান বা স্বীকৃতি পায়নি। কিছু আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে কিন্তু অর্থ দিয়ে সম্মান কেনা যায় না।’

জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী মো. সালমান হোসেন (২৪)। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর রামপুরায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনের সময় রামপুরা ওভারব্রিজের ওপর থেকে বিজিবির ফায়ারিংয়ে একটি বুলেট সালমানের পায়ে বিদ্ধ হয়। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসায় সালমানের একটি পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে ছোট হয়ে যায়। মুক্তিযুুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে আন্দোলনে আহত হিসেবে এখন তিনি ভাতা পাচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সালমান বলেন, ‘আন্দোলনে আমাদের প্রথম শর্ত ছিল বৈষম্যমুক্ত একটি বাংলাদেশ গঠন করার। আন্দোলনের আগে শিক্ষা খাতে যে বৈষম্য ছিল তা এখনো আছে। আমার প্রত্যাশা আমাদের সংবিধান হবে গণমানুষের। আর রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন করে গণমানুষের জন্য একটি বাংলাদেশ উপহার দেবে সরকার।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কথা বলেছিলাম। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বেশির ভাগই এই সরকার গ্রহণ করেছে। কিছু অধ্যাদেশ তারা রিভিউর জন্য পাঠিয়েছে। এর মধ্যে আমরা শুনছি বেশ কিছু অধ্যাদেশ নানাভাবে পরিমার্জন করে রি-অ্যাপ্লাই করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের সচিবালয় করার কথা ছিল, সেটা করা হয়নি। এ ছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ যা বাস্তবায়নের কথা ছিল, সেটিও আমরা দেখছি না। সংসদে জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। অভ্যুত্থান হলেও এর মধ্য দিয়ে যে সামাজিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি হওয়া দরকার ছিল সেখানে আরও বেশি কাজ করতে হবে।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএনপি দেশে নতুন সরকার হিসেবে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অংশীদার। সংস্কারের বিষয়ে তাদের যে নতুন অঙ্গীকার ছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে দফাগুলো ছিল, তার আলোকেই দুটো সন্নিবেশ করে ধীরে ধীরে বিএনপি সরকার সংস্কারের দিকে অগ্রসর হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের যে দাবি ছিল, তা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করবেন। এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এই সংস্কারের কাজগুলো ধীরে ধীরে করতে হবে। ম্যাগনা কার্টা হঠাৎ একসঙ্গে আসেনি। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সব সমস্যা একসঙ্গে আসে। উন্নত দেশগুলোতে একটা সমস্যা এলে সেটি সমাধান করে অন্য সমস্যার সমাধান করা হয়। এ ক্ষেত্রে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যে ওয়াদা দিয়েছেন, সেদিকেই অগ্রসর হচ্ছেন। আমরা আশা করছি ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে যে দাবি তার বাস্তবায়ন হবে। মাত্র পাঁচ-ছয় মাসে এ ব্যাপারে একটি সরকারকে মূল্যায়ন করা যায় না। এজন্য সরকারকে সময় দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে একটি গাছের মতো যত দিন গাছ বাঁচবে তত শক্তিশালী হবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নতুন সরকার আগের সরকারের রাজনৈতিক বিষয়গুলো সমাধানেই বেশি সময় দিচ্ছে। এজন্য অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলোকে এখনই বড় আকারে গুরুত্ব দিতে পারছে না। রাজনৈতিক উত্তরণের পর প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জায়গায় গতি আসবে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু এখনো গতি বৃদ্ধি পায়নি। এর বড় কারণ নির্বাচনের পর যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেই পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

তিনি বলেন, বেকারত্ব বেড়েছে, কর্মসংস্থানে চাপ রয়েছে, এসএমই খাত দুর্বল হয়েছে। এই জায়গাগুলোতে বড় রকমের পুনরুদ্ধার এখনো দেখা যায়নি। যদিও সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে। এর ফলাফল দেখতে আরও বছর খানেক লাগবে। তবে অবস্থা একেবারে যেখানে নেমে গিয়েছিল সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা ২০২৪ সালের ১ আগস্ট নিজের অফিসকক্ষ থেকে শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে ফেলে প্রতিবাদ করেন। এই অধ্যাপক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জুলাই-আগস্টে সাধারণের নতুন বন্দোবস্তের ওপর একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সাধারণের প্রত্যাশা ছিল যেকোনো ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হবে। কিন্তু ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা দেখলাম জনগণের বৈষম্য দূর করার যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল তা পূরণ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে নারীদের নিরাপত্তা বাড়েনি। আন্দোলনের সময় যেভাবে নারীসমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল সে নারীরা এখনো শঙ্কামুক্ত নন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri cURL Hatası: OpenSSL SSL_connect: SSL_ERROR_SYSCALL in connection to lkl.dolarkurum.com:443
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri cURL Hatası: OpenSSL SSL_connect: SSL_ERROR_SYSCALL in connection to lkl.dolarkurum.com:443