একজন ব্যবহারকারীর শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট শেয়ার করার অভিযোগে বৈশ্বিক মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামকে সাময়িকভাবে অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে দেয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। পরে আপত্তিকর কনটেন্ট মুছে ফেলা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে নিষিদ্ধ করার পর অ্যাপটি আবারও অ্যাপ স্টোরে ফিরিয়ে আনা হয়।
একই দিনে অ্যাপটি অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং পুনরায় চালু করা হয়।
অ্যাপলের এক মুখপাত্র জানান, নিয়মিত পর্যালোচনার সময় প্ল্যাটফর্মটিতে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ নীতি লঙ্ঘনের বিষয়টি শনাক্ত হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা অনুযায়ী অ্যাপটি সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে টেলিগ্রাম দ্রুত আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণ এবং দায়ী ব্যবহারকারীকে নিষিদ্ধ করলে অ্যাপটির প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়।
বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটির বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে বলে দাবি করা টেলিগ্রাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। চলতি বছর এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার গ্রুপ ও চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টেলিগ্রাম প্রশ্ন তোলে, অ্যাপ স্টোরের অন্যান্য অ্যাপের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে একই কঠোর নীতি সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে কি না।
এদিকে অ্যাপলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনলাইন গেম ফোর্টনাইটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এপিক গেমসের প্রধান নির্বাহী টিম সুইনি। তিনি বলেন, এক বিলিয়ন ব্যবহারকারীর মধ্যে একজনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো অ্যাপ সরিয়ে দেওয়া হলে আইমেসেজসহ অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
এর আগে ২০১৮ সালেও একই ধরনের ঘটনায় টেলিগ্রামকে সাময়িকভাবে অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে দিয়েছিল অ্যাপল।
সম্প্রতি টেলিগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অবৈধ কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ বেড়েছে। গত এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অবকম শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে প্রশাসনিক প্রশ্নের জবাব দিতে বিলম্ব করায় অস্ট্রেলিয়া সরকারও প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে।