ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার কারণে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
জুলাই সরবরাহের ব্রেন্ট তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যুক্তরাষ্ট্র সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় ১০০ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উদ্বেগ ও চলমান সামরিক পরিস্থিতি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছেলে মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না। তার এই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দুটি মাইন বসানো নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালায়।
ওয়াশিংটনের দাবি, ওই স্থাপনাগুলো মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। তবে ইরান অভিযোগ করেছে, এই হামলা যুদ্ধবিরতির সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে এবং তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ যেখানে দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এই পথ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যদিও জাহাজে থাকা সবাই নিরাপদ আছে, তবুও এ ঘটনায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নতুন করে সামনে এসেছে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বার্তা ও সামরিক পদক্ষেপের কারণে সেই আশাবাদ দ্রুত ম্লান হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের বাজারে সরবরাহ-চাহিদার চেয়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই দামের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে।