এবারের বিশ্বকাপে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফুটবলের ইতিহাসে সোনালী অধ্যায়ে জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে তারা হ্যারি কেইন, বেলিংহামদের রুখে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করল আলবিসেলেস্তেরা।
এই জয়ের মাধ্যমে গত চারটি বিশ্বকাপের তিনটিতেই ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ২০১৪ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনা কেবল একবারই বিশ্বকাপের ফাইনাল মিস করেছে; তা ছিল ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। ওই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে দ্বিতীয় রাউন্ডে (শেষ ষোলো) হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা।
আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য যাত্রার শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে, ব্রাজিলের মাটিতে।
তৎকালীন কোচ আলেহান্দ্রো সাবেলার অধীনে দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে ফাইনালে উঠেছিল আলবিসেলেস্তেরা। নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে ফাইনালে উঠলেও অতিরিক্ত সময়ের গোলে জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছিল মেসিদের।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল স্কালোনির হাত ধরে আসে পরম আরাধ্য সেই ট্রফি। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া দলটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় পরে। এর চার বছর পর চলতি বিশ্বকাপে সেই চ্যাম্পিয়ন স্কোয়াডের অধিকাংশ খেলোয়াড়কে ধরে রেখে আবারও ফাইনালে পৌঁছে গেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
তবে ১৯৯৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের বাধাটাই পার হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। সেখানে গত চারটি আসরের তিনটিতেই ট্রফি জয়ের একদম শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে তারা। ব্যর্থতার সেই দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায় পেছনে ফেলে আর্জেন্টিনা এখন বিশ্ব ফুটবলের অপ্রতিরোধ্য এক শক্তি।