রফতানির বৃহত্তম বাজার ইইউকে রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধা দেওয়া সঠিক না

Reporter Name / ১৩৮ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যনীতিতে একটি ‘কাঠামোগত বিভ্রান্তি’ রয়েছে। আমরা এই ধারণায় আচ্ছন্ন যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বৃহত্তম রফতানি বাজার। কিন্তু এটি মাত্র ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বাজার। আমাদের প্রকৃত বৃহত্তম বাজার হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রধান বাজার হওয়া সত্ত্বেও সেখান থেকে পণ্য না কিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও মার্কিন বিমান কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দেওয়া সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন—একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে রেহমান সোবহান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সমাজ গবেষণা কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। গত ১ মে ঢাকায় এই চুক্তি সই হয়।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটি একপেশে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রেহমান সোবহান আরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখন এশিয়ায়, বিশেষ করে পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায়। তাই বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারও এই অঞ্চলভিত্তিক হওয়া উচিত। বড় আকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিতে হলে তা একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড ও অন্যান্য কর্মসূচিকে একীভূত করে একটি বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান ৮ শতাংশ কর আদায়ের হার বড় ধরনের বাজেট চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। উচ্চ আয়ের স্তর থেকে যথাযথ কর আদায় না হওয়াকে তিনি বৈষম্যের অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। ঋণখেলাপি সংকট শুধু ব্যাংকিং ব্যবস্থাকেই দুর্বল করেনি, বরং এটি আয়বৈষম্য বাড়ানোর বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ একটি সংকীর্ণ অভিজাত শ্রেণির হাতে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ শুরুতে মধ্যপন্থি সামাজিক গণতান্ত্রিক অবস্থানে থাকলেও পরে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজমে’ জড়িয়ে পড়ে। একইভাবে বিএনপির নেতৃত্বের সামাজিক পটভূমিও কর আদায় ও ঋণ খেলাপি ইস্যুতে তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম এম আকাশের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আরো বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520