সরকার ও দল পরিচালনায় পৃথক কাঠামো তৈরির কৌশল হিসেবে রাজধানীর রাজনীতিতে আরও গতি বাড়াতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাগে বিভক্ত ঢাকা মহানগর ইউনিট (উত্তর ও দক্ষিণ) ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদেরও সম্পৃক্ত রেখে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরিকল্পনা করছে দলীয় হাইকমান্ড।
জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সারা দেশেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। জেলাগুলোতে নেতাদের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। আর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেদিন বলবেন, সেদিন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি দেওয়া হবে।
সূত্র বলছে, প্রায় এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে দলটি। চলতি বছর সুবিধাজনক সময়ে কাউন্সিল করার লক্ষ্য দলটির। এর আগে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীর্ষ পদ পেতে নেতারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তৎপরতা দেখা যাচ্ছে দলের নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদেরও। তবে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চাচ্ছেন-যারা ত্যাগী এবং দলের জন্য নিবেদিত, তাদের যেন মূল্যায়ন করা হয়। তারা বলছেন, মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে ‘ত্যাগী ও পরীক্ষিত’ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কেন্দ্রীয় নেতাদের। একই সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলারও দাবি তাদের।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তরে সাইফুল আলম নীরবকে আহ্বায়ক এবং আমিনুল হককে সদস্য সচিব, দক্ষিণে রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবিনকে সদস্যসচিব করে কমিটি দেওয়া হয়। পরে উত্তরে সাইফুল আলম নীরবকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে ওই বছরের ৪ঠা নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক এবং মোস্তফা জামানকে সদস্যসচিব করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। এর মধ্যে উত্তরে ২৬টি থানা এবং ৭১টি ওয়ার্ড কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আবদুর রাজ্জাক। দক্ষিণে ২৪টি থানার মধ্যে ২২টি কমিটি দেওয়া হয়েছে এবং ৮০টি ওয়ার্ডে কমিটি আছে বলে জানিয়েছেন দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু। উত্তরে শীর্ষ দুই পদে যারা আলোচনায় আছেন, তারা হলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক টেকনোক্রেট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বর্তমান সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, মহানগর বিএনপির নেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এ বি এম আবদুর রাজ্জাক এবং যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির রফিকুল আলম মজনু দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি এখন সংসদ সদস্য। নিজ সংসদীয় এলাকায় বিভিন্ন কাজে এখন তাকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তিনিও শীর্ষ পদপ্রত্যাশী। এ ছাড়া দক্ষিণে শীর্ষ দুই পদে আরও যারা আলোচনা আছেন- তারা হলেন- দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম, লিটন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরদার, দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু, বর্তমান সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী।