চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজ অনুষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার ও মেরিন সায়েন্সস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর কঠিনতম সময় অতিক্রম করে অবশেষে গণতান্ত্রিক পরিবেশে আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা বলতে পারছি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ একটা দর্শনের নাম। এটা হচ্ছে মানুষের মুক্তির দর্শন। এ দর্শনের প্রবক্তা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এ দর্শনের কথা আমরা দীর্ঘদিন পর উন্মুক্ত পরিবেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে বলতে পারছি, এটা একটা সৌভাগ্যের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারুণ্যের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতগতিতে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।’
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘এ আয়োজন নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের মনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। বিগত শিক্ষার্থীরা সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পায়নি। এখন সময় এসেছে সত্য ইতিহাস জানার। ইতিহাসের কোনো অংশ বাদ দিয়ে কিংবা কারো অবদান ছোট করে নয় সঠিক ইতিহাসটা শিক্ষার্থীদের জানতে হবে।’
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এ প্রজন্মকে জানতে হবে। শহীদ জিয়া শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, তিনি বর্তমান যে বাংলাদেশ, সেটার রূপকার ছিলেন। আজকের আধুনিক অনেক কিছুরই বীজ বপন করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।’
মেরিন সায়েন্সস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরেছিলেন। জনবান্ধব অনেক উদ্যােগ গ্রহণ করেছিলেন তিনি, যার সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। বিগত সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানতে পারেনি কেউ। সঠিক ইতিহাস জানা দরকার।’
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ, বই ও একটি ফলজ গাছের চারা প্রদান করা হয়। বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেন চবি উপাচার্য। এছাড়া জাতীয়তাবাদী পরিবারের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্যকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্যবৃন্দ। এরপর উপাচার্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চবি শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ, জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্যবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ, চবি ছাত্রদলের নেতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা।