Headline :
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম নুরুল এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হামলা হলে সীমাহীন পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম নারায়ণগঞ্জে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন হামে ঝরল আরও ৩ প্রাণ যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, শহরজুড়ে পুলিশের নজরদারি ফের শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে গাজীপুরবাসী ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার

তেল নিয়ে তেলেসমাতি

Reporter Name / ৩১১ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি তেল নিয়ে একদিকে যেমন মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে তেল নিয়ে চোখের সামনেই চলছে তেলেসমাতি। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে তেলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের দীর্ঘ লাইনে চালকদের অপেক্ষা যেন শেষই হতে চায় না। এই চালকদের এই ভোগান্তি ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এক শ্রেণির মানুষ এখন অবৈধ ব্যবসা শুরু করেছেন। পাম্পে দীর্ঘ লাইনে আগে তেল নেওয়ার জন্য সিরিয়াল বিক্রি করছেন এই চক্র। আবার অবৈধভাবে তেল মজুত করে একটি চক্র পাম্পের বাইরে খোলাবাজারে তেল বিক্রি করছেন। কেউ কেউ অনলাইনেও পাম্প নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ দামে তেল বিক্রি করছেন। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে অবৈধভাবে মজুত করা প্রচুর জ্বালানি দেশের বাইরে পাচার হওয়ার ঘটনা কোস্ট গার্ডের অভিযানে জানা যাচ্ছে।

তেলের লাইনের সিরিয়াল বিক্রি : ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ গাড়ির লাইন এখন কয়েক কিমি ছাড়িয়েছে। তেল নিতে গিয়ে দিন-রাত পার হয়ে যাচ্ছে। এতে চালকদের ৫ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এই ভোগান্তি এড়াতে অনেক মোটরসাইকেলচালক এখন তেলের লাইনের সিরিয়াল কিনছেন। যাতে তারা কম সময়ে তেল কিনতে পারেন। সম্প্রতি রাজধানীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনে মুসা আহমেদ নামের এক মোটরসাইকেল চালক পাম্পের কাছে তেল নেওয়ার সিরিয়ালে দাঁড়ানো রাইড শেয়ার করেন এমন মোটরসাইকেল চালকের কাছ থেকে ৫শ টাকার বিনিময়ে তার সিরিয়াল কিনে নেন। ফেসবুকেও অনেকে এই সিরিয়াল বিক্রি করছেন।

বিক্রি হচ্ছে খোলাবাজারে : অবৈধভাবে তেল মজুতকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলি, মুদি দোকান ও গাড়ির গ্যারেজে বোতলে ভরেও তেল বিক্রি করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার মোহাম্মদপুর, বছিলা, মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকার বাজারে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক দিন বিভিন্ন পাম্প ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি চক্র পাম্পের তেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে এই তেল মজুত করে পরে তা পাম্প নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

নিকুঞ্জ মডেল স্টেশনের এক কর্মচারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পাম্পে যারা তেল নিয়ে যায় তাদের ২০ শতাংশই পরে তা মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছে। উঠতি বয়সি ও রাইড শেয়ারিং চালকরা তেলের অবৈধ মজুত বেশি করছে।

অনলাইনে চলছে অবৈধ বিক্রি : পাম্পে যেখানে প্রতি লিটার অকটেন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, সেখানে খোলা বাজারে ২শ থেকে আড়াই শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার অনলাইনে এর চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। কে এম রাজন নামের এক মোটরসাইকেল চালক সম্প্রতি অনলাইনের এক মার্কেট প্লেসে মোহাম্মদপুরে ৫ লিটার তেল নেওয়ার জন্য মো. সাকিব নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উত্তরে বিক্রেতা জানান, প্রতি লিটার আড়াই শ টাকা করে ৫ লিটার তেলের দাম ১৩শ টাকা। তেল কিনতে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে অনেক মোটরসাইকেল চালক পোস্টও দিচ্ছেন। ফুয়েল আপডেট বিডি নামের একটি গ্রুপে গতকাল তুষার বাবু নামে মোটরসাইকেল চালক ১০ লিটার অকটেন কেনার পোস্ট দেন। তিনি প্রতি লিটার ২৫০ টাকায় কিনবেন এমনটি জানালে সাভারের আরেক মোটরসাইকেল চালক আমিদ হাসান ইমন জানান, তিনি ১০ লিটার তেল বিক্রি করবেন।

হচ্ছে তেল পাচার : বাংলাদেশ থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমারে তেল পাচারের ঘটনা যাতে না ঘটে এজন্য সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে আছেন। দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন সময় তেলের পাম্প থেকে অবৈধভাবে তেল পাচার করার ঘটনাগুলোও সামনে আসছে। জ্বালানি বিভাগের দেওয়া তথ্যে, গত মার্চ ও ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মোট ৮৩ হাজার ৫০৮ লিটার ডিজেল এবং চার হাজার ৮শ লিটার পেট্রোল অবৈধভাবে মজুতকৃত তেল উদ্ধার করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category