বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ‘চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তাদের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ ড্র করা মরক্কো হাইতিকে হারিয়ে হয়েছে রানার্সআপ।
ভিনির জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় ৩-০ পায় সেলেসাওরা। ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শেষ ৩২-এ তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে ‘এফ গ্রুপের রানার্সআপ দলকে। এফ গ্রুপে থাকাদের মধ্যে রানার্সআপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেনের। অন্যদিকে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ মরক্কোও এই তিন দলের কোনো একটিকে (যারা চ্যাম্পিয়ন হবে) প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে। হাইতির বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে তাদের পয়েন্টও দাঁড়িয়েছে ৭, তবে তারা ব্রাজিলের চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে।
এদিন ম্যাচের সাত মিনিটেই গোল করেন ভিনি। স্কটল্যান্ডের রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করলেন এই ব্রাজিলিয়ান। সেন্টার-ব্যাক স্কট ম্যাককেনার পাস ব্লক করে দেন তরুণ উইঙ্গার রায়ান। সেই ভুলের সুযোগে বল চলে যায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কোনো ভুল করেননি।ম্যাচের শুরুতেই এমন গোল হজম করে বড় ধাক্কা খায় স্কটল্যান্ড।
এরপর ২২ মিনিটে আরও একটি গোল করেন তিনি। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন। সেই গোলটিও আসে স্কটিশ ডিফেন্সের ভুলে। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার হেনড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার আগে ভিনি তার ডান পায়ে সামান্য হলেও আঘাত করেন। গোল করলেও স্কটিশদের খেলোয়াড়দের আবেদন আমলে নিয়ে মাঠের রেফারি ভিএআর যাচাই করে গোল বাতিল করে ফাউলের সিদ্ধান্ত জানান।
পরে প্রথমার্ধের যোগ সময়ের আবারও ভিনি গোল করেন। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের দুর্বলতা আবারও সামনে চলে এলো। একাধিকবার বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েও তারা ব্যর্থ হয়, আর সেই সুযোগই কাজে লাগায় ব্রাজিল। ডান দিক থেকে আসা ব্রুনো গুমাইরেসের ক্রসে পেছনের পোস্টে একেবারে ফাঁকা অবস্থায় ছিলেন ভিনিসিয়ুস। তিনি সহজ একটি হেডে বল জালে পাঠিয়ে দেন। প্রথমার্ধের খেলা শেষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা মাঠে ফিরলে আরেকটি গোল করে ব্রাজিল। এবার গোলটি আসে ৬১ মিনিটে মাথেউস কুনহার পা থেকে। গোল করে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন কুনহা। ৭৬ মিনিটে কুনহার পরিবর্তে দীর্ঘ ৩২ মাসের বিরতি ভেঙে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন নেইমার। তিনি মাঠে নামার সময় গ্যালারির সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়।বিপরীতে শেষ মুহূর্তে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। কিন্তু বেকার দেওয়াল টপকাতে পারেনি তারা। এতে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।