দয়া করে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করবেন না

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

দীর্ঘ কুড়ি বছর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী নতুনভাবে রাষ্ট্রপরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন। সংযম, কৃচ্ছ্রসাধন, পরমতসহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি নতুন সংস্কৃতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন। বিভেদ, হানাহানি, ক্ষমতার দাপটের বদলে তিনি মার্জিত, বিনয়ী এবং পরিশীলিত সরকার পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনায় সব ক্ষেত্রে অপচয় বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রথমদিন থেকেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল বহর কমিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে সাধারণ রুচিশীল আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অপচয় বন্ধে নিজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যখন দুপুরের খাবার খরচ দশ ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে তখন অনেক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীদের আপ্যায়ন ব্যয় চলছে আগের মতোই। একটি মন্ত্রণালয়ে দুপুরের খাবার আসছে পাঁচ তারকা হোটেল থেকে। এ ধরনের ঘটনা বিব্রতকর। প্রধানমন্ত্রীর দেশ পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীত।

প্রধানমন্ত্রী নিজে বিদেশ সফরে সংযমের নীতি অবলম্বন করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ছিল মালয়েশিয়া। সেখানে তিনি যান ছোট একটি টিম নিয়ে। শুধু এ সফরে যাদের প্রয়োজন তাদেরকেই সফরসঙ্গী করা হয়। একটি সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করছেন। অতীতের সঙ্গে তুলনা করলে, বিশেষ করে ইউনূস আমলের সঙ্গে তুলনা করলে এটা একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ইউনূস যেখানে বিমান ভর্তি করে তাঁর স্তাবক এবং লটবহর নিয়ে বিদেশ সফরের নামে প্রমোদ ভ্রমণ করতেন তারেক রহমান সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় এবং লোকবল নিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করছেন, এসব বিদেশ সফরে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর নয়- এ নীতি কি বিএনপি সরকারের সবাই মানছেন? না। অনেকেই মশা নিধনের কৌশল দেখতে ফ্লোরিডা যাওয়ার বায়না ধরছেন। অনেকেই লিফট দেখতে বিদেশ যেতে চাইছেন। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত এদের লাগাম টেনে ধরতে পেরেছেন। কিন্তু এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা দেয়। সাধারণ মানুষ মনে করতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী দলের নেতারা কাজ করছেন না। এটি সরকারের জন্য অস্বস্তির।

শুধু বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে নয়, দেশের ভিতরে বিভিন্ন সফরেও তারেক রহমান পুরোনো রীতি মাত্র তিন মাসে ভেঙে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার বাইরের সফর মানেই হেলিকপ্টার, গাড়ির বহর, দীর্ঘদিনের এই রীতি পাল্টে দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু বিলাসবহুল হেলিকপ্টারে নয় সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানে। কিছুদিন আগে যা ছিল কল্পনার বাইরে। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো ত্যাগী পরীক্ষিত নেতারা প্রধানমন্ত্রীর মতোই সাধারণ বিমানে ঢাকার বাইরে যাতায়াত করলেও কিছু নব্য নেতা এখনো ক্ষমতার বিলাসী জীবনযাপনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। এখনো তাঁরা এলাকায় যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে। এটা দলের জন্য বিব্রতকর।

প্রধানমন্ত্রী নামকরণের পুরোনো সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে এসেছেন। এ জন্য তিনি সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রের নাম তাঁর মায়ের নামে করার একটি প্রস্তাব তারেক রহমান নাকচ করে দেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বিরল শিক্ষণীয় ঘটনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দর্শন কি বুঝতে পারছেন বিএনপির মন্ত্রীরা? একজন প্রতিমন্ত্রী তাঁর ছেলের নামে দুটি ইউনিয়নের নাম রেখে বিএনপি মন্ত্রিসভাকেই বিব্রত করেন। এনিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশেষে হস্তক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ওই নাম বাতিল করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের মতো ছোট্ট ইস্যুতে এরকম বিতর্ক হবে কেন? কেন এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। একজন প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রীর কাছে কী এতটুকু দায়িত্ববোধ প্রত্যাশা করতে পারেন না প্রধানমন্ত্রী? মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের কাজ হলো ভালো কাজ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া, প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করা। কিন্তু তাদের কারণে যদি প্রধানমন্ত্রীকে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেটা কতটা যৌক্তিক?

প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি একাধিকবার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান দেখাচ্ছেন। সরকারের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন তারেক রহমান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি কী অনুসরণ করছেন সরকারের সবাই? একজন প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে সত্য খবর প্রকাশের পর একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ আছে, ওই সংবাদকর্মীকে গ্রেপ্তারে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ছিল। প্রধানমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রী যখন গণমাধ্যমকে ইউনূস জামানার ভীতিকর অবস্থা থেকে মুক্ত করতে কাজ করছেন। সংবাদমাধ্যমে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন তখন এ ধরনের একটি ঘটনা পুরো উদ্যোগ ভেস্তে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই চাঁদাবাজি, মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আরও এক বছর আগে জানিয়েছিলেন অন্তত ৪ হাজার নেতা-কর্মীকে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এসব অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি একজন এমপিপুত্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু সরকারের নয় বিএনপির ইমেজ ক্ষুণ্ন করছে।

বিএনপি দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আজকের প্রধানমন্ত্রী ১৭ বছর সীমাহীন নিপীড়ন ও অত্যাচার সহ্য করে আজকের জায়গায় এসেছেন। তিনি জানেন, জনগণ কী চায়। সে অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশে নতুন ধারার রাজনীতি এবং সরকার পরিচালনা পদ্ধতি চালু করার চেষ্টা করছেন। সরকারের সব কার্যক্রমে একটি জনবান্ধব আবহ তৈরির উদ্যোগ দৃশ্যমান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ সফল করতে হলে সরকারের সব মন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকদের একই পথে হাঁটতে হবে। সেটা হচ্ছে না মুষ্টিমেয় কয়েকজনের কারণে। এদের কারণে সরকার অস্বস্তিতে পড়ছে। তাই দোহাই লাগে, প্রধানমন্ত্রীকে আর বিব্রত করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী কাজ করুন। মনে রাখবেন, এ সরকার সফল না হলে গণতন্ত্র সংকটে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520