সরকারি পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র

Reporter Name / ৪ Time View
Update : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কানহর ধরার খাল পুনঃখননকাজ উদ্বোধন শেষে জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় খালপাড়ে একটি তাল গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য তাদের জ্বালা ধরেছে। এজন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে। তারা কৃষকদের সমস্যা, খাল কাটা, কর্মসংস্থানের কথা বলছে না। তারা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। এ ধরনের অরাজক পরিস্থিতি হলে ক্ষতি কার হবে? কৃষকের হবে, সাধারণ মানুষের হবে। তিনি বলেন, যারা দেশে অরাজকতা করছে, তাদের সঙ্গে ৫ আগস্ট বিতাড়িতদের আঁতাত আছে। রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে দুঃখজনক ও অত্যন্ত হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। এক মাসের মধ্যেই শিশু রামিসা হত্যার বিচার করা হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। কিছু মানুষ অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। কিন্তু বর্তমান সরকার রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাআল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তি এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল আসনের এমপি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুরের এমপি শাহ ওয়ারেস আলী মামুন, ময়মনসিংহ-৪ আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের এমপি জাকির হোসেন বাবলু, গফরগাঁওয়ে এমপি আকতারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ত্রিশালবাসীর জন্য একটি আনন্দের দিন। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটি খননকাজের উদ্বোধন করতে এসেছিলেন। পরে এই খালটির খননকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষের অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে কৃষকের। আজ এই খালটি পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করলাম। ফলে জেলার ৪ লাখ ৩ হাজর কৃষক উপকৃত হবে, আর এই এলাকার ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে। ময়মনসিংহ জেলায় এরকম প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল আছে, যা আমরা পুনঃখনন করতে চাই।’

তিনি বলেন, সরকার যে খাল খনন করছে তাতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। সরকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করছে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে।

দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বলেছিলাম সরকার গঠন করলে খাল খনন করব, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেব, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যাগ দেব। কাজ চলছে, জুলাইয়ের মধ্যে পোশাক ও ব্যাগ দেওয়া হবে। ইমাম ও ধর্মগুরুদের সম্মানি দেব, সেটাও করছি। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, সেটাও পর্যায়ক্রমে শুরু করেছি।’ বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০ কোটি মানুষের পরিবারের জন্য ফ্যামিল কার্ড, কৃষক কার্ড ও চিকিৎসাব্যবস্থা করা কি এক দিনে সম্ভব? ঐক্যবদ্ধ থাকলে পর্যায়ক্রমে সবই সম্ভব।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয়জন কাজী নজরুল ইসলামের চির অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। ২০০৬ সালের পর থেকে জাতীয় কবির অমর স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী উদ্্যাপন হয়নি। প্রায় দুই দশক পর আজ পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরব বোধ করছে। আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যদি আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ কিংবা বরণ করতে না পারি এটি তাঁদের নয় বরং জাতি হিসেবে আমাদেরই দৈন্য প্রকাশ পায়। এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৭৬ সালে ঢাকার শেরেবাংলা উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যাঁরা কাঁধে করে বহন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি র‌্যালিতেও অংশ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এভাবে জাতীয় কবির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে। আমি মনে করি, এসব কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে চলে যাওয়ার কারণেই বর্তমানে আমাদের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520