যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের বেইজিং সফরের দ্বিতীয় দিনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে চীনা প্রেসিডেন্ট মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি রক্ষাই হবে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি। কারণ তাইওয়ান প্রশ্নে দুই পক্ষের বিরোধ হলে তাতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। সূত্র : সিজিটিএন, রয়টার্স, বিবিসি, আলজাজিরা, এএফপি
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, একটি ‘গঠনমূলক, কৌশলগত এবং স্থিতিশীল’ সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছেন বেইজিং সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠক সম্পর্কে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অবস্থান হিসেবে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক, কৌশলগত এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, এ অবস্থানটি পরবর্তী তিন বছর এবং তার পরবর্তী সময়ের জন্য চীন-মার্কিন সম্পর্কের কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য দলগুলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক ফলে পৌঁছেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীনের দরজা কেবল আরও প্রশস্ত হবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলো চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা জোরদার করতে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাগত জানায়। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে এ দুই স্পর্শকাতর ইস্যুতে একমত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। বৈঠকে শি জিনপিং স্পষ্টভাবে জানান, চীন হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণের ঘোর বিরোধী। একই সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টারও সমালোচনা করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে শি জিনপিং আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই রুটের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল আমদানিতে আগ্রহী চীন। দুই পরাশক্তি দেশই এ বিষয়ে একমত হয়েছে, বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত, বৈঠক নিয়ে চীনা রাষ্ট্রীয় গণ মাধ্যমের প্রকাশিত বিবরণে মার্কিন তেল কেনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বেইজিং আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্যও দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও কৃষিপণ্য কেনা সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য চুক্তির অংশ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন শি জিনপিং : প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য ‘সংঘাতের’ বিষয়ে বেইজিং সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম। রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপে চীনের প্রেসিডেন্ট তাইওয়ান ইস্যুকে চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সতর্ক করে বলেন, যদি এটি (তাইওয়ান ইস্যু) ভালোভাবে পরিচালনা করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাধারণত স্থিতিশীল থাকতে পারে।
যদি এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা না হয় তবে দুই দেশ একে অন্যের সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে বা এমনকি সংঘাতে লিপ্ত হতে পারে। এটি সমগ্র চীন-মার্কিন সম্পর্ককে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। চীনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা তাইওয়ান প্রণালির শান্তির সঙ্গে ‘মৌলিকভাবে বেমানান’। ফলে প্রণালিতে শান্তি রক্ষা করা হবে ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাইওয়ান ইস্যুতে জিনপিংয়ের এ মন্তব্য ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং নজিরবিহীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া আলোচনার সারসংক্ষেপে তাইওয়ান প্রসঙ্গের কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
শি জিনপিংকে সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আগামী সেপ্টেম্বওে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে আয়োজিত ভোজসভায় গতকাল শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে ট্রাম্প এ আমন্ত্রণ জানান।