তেলের জন্য কয়েক মাইলজুড়ে লাইন

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঢাকার গাড়িচালকদের ভোগান্তি বেশ কিছুদিনের। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, তেলের সংকট দিনদিন তীব্র আকার ধারণ করছে। পয়লা বৈশাখের ছুটির পর গতকাল রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল কিনতে মোটরসাইকেল, গাড়িচালকদের লাইন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। স্টেশনগুলোর বাইরে কয়েক কিমি যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এ লাইনের কারণে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোতেও তীব্র যানজট তৈরি হয়। প্রখর রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়িচালকরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ক্রেতারা যে তেল পাবেন এর কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে একদিকে যেমন এই চালকদের শত শত কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। কেউ আগের রাত থেকে, কেউ ভোর থেকে, আবার কেউ সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তবু তেল পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা তারা পাননি।

কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর মানিকদীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে দিনে-রাতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। কিন্তু গতকাল এ স্টেশন থেকে লাইন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকাও ছাড়িয়ে স্টেশনটির বিপরীতে মিরপুর থেকে ইসিবি চত্বর যাওয়ার প্রধান সড়কে তেল নিতে গাড়িচালকদের সিরিয়ালে দাঁড়াতে দেখা যায়। এর আগে এ স্টেশনে তেলের জন্য গাড়ির এমন লাইন আর দেখা যায়নি। মোটরসাইকেল চালক আবু নাহিয়ান বলেন, মিরপুরের এই স্টেশন থেকেই আমি সব সময় তেল নিই। দিনে-রাতে সব সময় তেল পাওয়া যাওয়ায় একটু দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হলেও সুমাত্রা থেকে তেল কিনি, কিন্তু আজকে এই স্টেশনে তেলের লাইন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। একই অবস্থা রাজধানীর নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টারেও। তেলের জন্য এত দিন এ স্টেশনের গাড়ির লাইন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছালেও গতকাল এ লাইন বনানী পর্যন্ত চলে যায়। এতে সেই এলাকার আশপাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়। তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা গাড়িচালকরা এক পর্যায়ে বাইরে প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় কেউ কেউ ছাতা মাথায় দাঁড়ান আবার কেউ গাছের নিচে ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন। একইভাবে রাজধানীর প্রগতি সরণির পিন্যাকাল সিএনজি অ্যান্ড অকটেন ফিলিং স্টেশনের তেলের লাইন এত দিন কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত ছড়ালেও গতকাল এ লাইন ৩০০ ফিট সড়কে চলে যায়। আবার তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক স্টেশন বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল না পেয়ে ক্লান্ত হয়ে আবার অন্য স্টেশনে তেলের খোঁজ করছেন। শাহবাগের মেঘনা সার্ভিস সেন্টারে দুপুর ১২টায় দাঁড়িয়ে বিকাল ৫টায় মোটরসাইকেলে তেল নিতে পেরেছেন রাসেল শিকদার। তিনি জানান, ফুয়েল পাস ব্যবহার করে এই পাম্প থেকে ১ হাজার টাকার অকটেন নিয়েছেন। তেল নিতে মোটরসাইকেল চালকরা এখন গভীর রাত এমনকি ভোরেও ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল চালক ইসমাইল মল্লিক জানান, তিনি প্রায় ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ফুয়েল পাস ব্যবহার করে ১ হাজার ২০০ টাকার তেল কিনেছেন। গরমে এত দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি অসুস্থ অনুভব করলেও জীবিকার জন্য তাকে এই কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520