সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান ইস্যুতে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। এ সময় স্পিকার তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানালেও তারা তা আমলে নেয়নি। এ সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিরোধী দল যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছে, সে বিষয়ে আনীত মুলতবি প্রস্তাবের নোটিসটি বিধিসম্মত ছিল না। ফলে এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

গতকাল স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে শেষ কথা বলার জন্য ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার যে এজেন্ডা আমরা উত্থাপন করেছিলাম এটা ছিল মূলত গণভোট ও গণভোটের রায়ের আলোকে সংস্কারের প্রস্তাব। এজন্য যে পরিষদটা গঠন হওয়ার কথা তার সভা আহ্বান-সংক্রান্ত। এটাই ছিল মূল নোটিসের বিষয়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবে আমি সাড়া দিতে গিয়ে বলেছিলাম, যেহেতু আলোচনাটা হয়েছে সংস্কার পরিষদের ওপর, যদি এটাকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ কমিটি গঠন হয় তাহলে আমরা ইতিবাচকভাবে সেটা ভেবে দেখব। একই সঙ্গে বলেছিলাম, সেখানে সরকারি দল এবং বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য নিলে এটা অর্থবহ একটা কমিটি হিসেবে রূপ নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং পরিষদ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এবং সংকট নিরসনে এ কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। জবাবে স্পিকার জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার নজির খুব কম থাকলেও বর্তমান অধিবেশনে আলোচনার স্বার্থে তা গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনার অবারিত সুযোগ রয়েছে এবং আগামীতেও এনিয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে স্পিকারের এ আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, তাদের মূল নোটিসকে ধামাচাপা দিতে অন্য একটি নোটিস সামনে আনা হয়েছে। তিনি এটিকে ‘জনগণের রায়ের অবমূল্যায়ন’ এবং ‘সংসদীয় রীতির লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। বলেন, ‘প্রতিকার চেয়েছিলাম। এ বিষয়টা কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্কিত না। যে বিষয়টা নির্বাচনের আগে সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলেন এর স্বপক্ষে কোথাও বলেছেন ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরা প্রতিকার পেলাম না, দেশবাসীর রায়ের প্রতিফলন ও মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধী দলে বসে এ অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না। এ কারণে তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।’ পরে তিনি দলের সব সদস্য নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার ঘোষণা দেন। ওয়াকআউটের সময় স্পিকার তাদের সংসদে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের ওয়াকআউট করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আপনি আমার বক্তব্য তো সম্পন্ন করতে দিলেন না। আমি আপনার পুরা বক্তব্য শুনেছি। ওয়াকআউট আপনাদের অধিকার কিন্তু আমি বলতে চাই, আজকে একটু পরে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। সেখানে আমার মনে হয়, আপনি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে আপনারা আরও কথা বলতে পারবেন। সুতরাং আমার অনুরোধ হলো, আপনারা ওটা শোনেন, তার পর যদি ওয়াকআউট করতে চান ‘প্লিজ ফিল ফ্রি’। আগে প্রস্তাবটির ভাগ্য কী নির্ধারণ হয় তা আপনি দেখার জন্য একটু অপেক্ষা করে দেখতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520