চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জন্য গ্রুপ পর্ব বা নকআউট পর্বের যাত্রা যেমনই হোক না কেন, ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসের জন্য এই আসরটি হয়ে থাকল চিরস্মরণীয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিজের জাদুকরি ফুটবলশৈলীতে বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করার পর এবার ফুটবলের রাজা পেলের এমন এক ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করলেন তিনি, যা গত ৫৬ বছর ধরে কেউ স্পর্শ করতে পারেনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের পেছনেই ছিল মাইকেল ওলিসের অনবদ্য দুটি অ্যাসিস্ট বা গোল বানিয়ে দেওয়ার কারিশমা। আর এই জোড়া অ্যাসিস্টের ওপর ভর করেই পেলের এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের বছরের পর বছর টিকে থাকা রেকর্ডটি নিজের নামে লিখে নিলেন এই ফরাসি তারকা।
বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই রেকর্ডের খতিয়ান বলছে, বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরাসি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ৭টি অ্যাসিস্ট সম্পন্ন করেছেন। এর আগে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে সতীর্থদের দিয়ে ৬টি গোল করিয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছিলেন। পেলের সেই জাদুকরি কীর্তিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন এক একক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল সহায়তাকারীর সিংহাসনে বসলেন মাইকেল ওলিসে। তবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সামগ্রিক অ্যাসিস্টের তালিকায় তিনি এখনো আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির চেয়ে ৫টি অ্যাসিস্টে পিছিয়ে আছেন, যিনি বিশ্বমঞ্চে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মূল রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছেন।
চলতি আসরে মাইকেল ওলিসের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় অসাধারণ। বিশেষ করে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে মাঠের ভেতর তার বোঝাপড়া ও রসায়ন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ জুড়িয়েছে। ডি-বক্সের ভেতর মাইকেল ওলিসের নিখুঁত ক্রস আর এমবাপ্পের গোল করার দুর্দান্ত ক্ষমতার এই যুগলবন্দি ফরাসি ফুটবলকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
যেহেতু মাইকেল ওলিসের ক্লাব ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলবদল বাজারে গুঞ্জন চলছে, তাই রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা ইতিমধ্যেই ওলিসে ও এমবাপ্পেকে আগামী দিনে ক্লাব ফুটবলেও একসঙ্গে সাদা জার্সিতে দেখার কল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সী এই ফরাসি তারকার সামনে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি, এবং ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপে মাইকেল ওলিসের বয়স যখন মাত্র ২৮ বছর হবে, তখন মেসির সর্বকালের সামগ্রিক অ্যাসিস্টের মহাকাব্যিক রেকর্ডটিকেও তিনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন বলে বিশ্বাস ফুটবল বিশ্লেষকদের।