বাজেট আলোচনায় পাল্টাপাল্টি

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রেখেছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা। সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের (জামায়াত) রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অবাস্তব, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও বৈষম্যের দলিল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত রেখে সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি বলেন, এ দলটি ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। তারা যেন রাজনীতি করতে না পারে। তাদের রাজনীতিও ফ্যাসিস্টদের মতো নিষিদ্ধ করা হোক। তিনি আরও বলেন, এই প্রথম বাজেটের প্রতিফলন- বাজারে দ্রব্যের মূল্য বাড়েনি। বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ করার এক বিশাল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বাজেট রাখা হয়েছে। তিনি কওমি মাদ্রাসার জন্য বাজেট রাখার দাবি জানান। এর আগে দেশে মসজিদ-মাদ্রাসায় সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মিটিং বন্ধে আইন পাস করার দাবি জানান বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে মানুষ নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে। একটি রাজনৈতিক দল মসজিদে রাজনীতি করছে। মসজিদের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অবাস্তব, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও বৈষম্যের দলিল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব আলম। তিনি বলেন, এ বাজেটে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়নি এবং উত্তরবঙ্গকে চরমভাবে অবহেলা করা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বগুড়ার শিবগঞ্জে ১৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও গাজীপুরে তার চেয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাজেটের ৩ লাখ কোটি টাকা ৩০০ সংসদীয় আসনে সমানভাবে বণ্টনের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না- জি এম সিরাজ : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ‘ডিভোর্স’ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) সিরাজ। ভারত বাংলাদেশকে অস্বীকার করতে পারবে না, বাংলাদেশও ভারতকে অস্বীকার করতে পারবে না। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।

সংসদে ‘মবক্রেসি’ শব্দ নিয়ে বিতর্ক, এক্সপাঞ্জের দাবি নাকচ : জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর মিছিল ও প্রতিবাদকে ‘মবক্রেসি’ হিসেবে উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শব্দটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানালেও তা নাকচ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাজেট প্রতিক্রিয়া হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে মিছিল ও প্রতিবাদ করেছে, তা নিয়ে আলোচনার সময় এক সদস্য ‘মবক্রেসি’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান তিনি। জবাবে স্পিকার বলেন, ‘মবক্রেসি’ কোনো অশ্লীল শব্দ নয়। এটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার মতো বিষয়ও নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট সদস্যকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, বাজেট আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এলে তিনি চাইলে এ বিষয়ে জবাব দিতে পারেন। এ সময় স্পিকারের বক্তব্যে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি শব্দটি নিয়ে আপত্তি তুলে বলেন, ‘মবক্রেসি’ শব্দটি ইতিবাচক অর্থ বহন করে না এবং এটি আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, অতীতে বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলও বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় কর্মসূচি দিয়েছে। সেসব আন্দোলনও কি তাহলে ‘মবক্রেসি’ ছিল? তবে স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি বলেন, ‘মবক্রেসি’ বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত রাজনৈতিক পরিভাষা এবং বিভিন্ন বক্তৃতায় শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। এটি কোনো অশ্লীল বা অসংসদীয় শব্দ নয়। শব্দটি মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে জনতার চাপভিত্তিক রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনায় ব্যবহৃত হয়। তাই সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এটি বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ : বাজেট অধিবেশনে সংসদ কক্ষে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রীদের আসন খালি থাকা নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে স্পিকার বলেন, অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি দেখতে চাই। তবে অর্থমন্ত্রী এখানে আছেন। সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অন্য মন্ত্রীদেরও অনুরোধ জানাব, তারা থাকলে আমরা বাধিত হব। এরপর চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, অনেকে রাষ্ট্রীয় কাজে বা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন, এটা ঠিক। তবে তাদের সংসদে আসা উচিত, আসলে ভালো হয়। অর্থমন্ত্রী আগাগোড়া এখানে উপস্থিত আছেন। কারণ বাজেটসংক্রান্ত বিষয়ে যেসব কথা বলা হয়, সব কথার শেষ কথা গিয়ে অর্থমন্ত্রীই বলবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520