বরিশালে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করায় শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় ৬ থেকে ৭ গুণ বেশি শিশু ভর্তি থাকায় বেড সংকট, জনবল ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেক শিশু রোগীকে বারান্দা এমনকি খোলা স্থানেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার খড়কী গ্রামের বাসিন্দা বিচিত্রা দাস তার ১১ মাস বয়সি ছেলে স্বস্তি দাসকে নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় স্থান পেয়েছেন। তিনি জানান, গত মে মাসে তার সন্তানকে হাম প্রতিরোধক টিকা দেওয়া হলেও পরে হামে আক্রান্ত হয়। শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও কোনো বেড না পাওয়ায় বারান্দাতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কাক্সিক্ষত সেবাও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই অবস্থা আরও অর্ধশতাধিক শিশুর। হাসপাতালের বারান্দা ও উন্মুক্ত স্থানেই নামমাত্র চিকিৎসা নিয়ে দিন কাটছে তাদের। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাস থেকে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর রবিবার পর্যন্ত ৩ হাজার ১৪৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৪০ জন শিশু। এর মধ্যে শিশু ইউনিট-১ এ রয়েছে ১২৬ জন রোগী। ইউনিটটিতে একটি ছোট কক্ষকে হাম ডেডিকেটেড ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিদিন রোগী ও স্বজন মিলিয়ে শতাধিক মানুষ অবস্থান করছে। ওয়ার্ডটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বৈদ্যুতিক বাতি ও ফ্যানই একমাত্র ভরসা। ফলে পরিবেশ দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে।
শিশু ইউনিটের নার্স ইনচার্জ বলেন, চার মাস ধরে নার্সদের কোনো ছুটি নেই। একটানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। প্রয়োজনীয় জনবল ও কর্মপরিবেশ না থাকায় সেবাদান কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনের সময় ডাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাড়া মিলছে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারপরও সীমিত সামর্থ্য দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।