ডিপো চার্জ বৃদ্ধিতে বছরে বাড়তি ব্যয় ১০০ কোটি টাকা

Reporter Name / ২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক বেসরকারি অফডক বা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোর (বিকডা) হ্যান্ডলিং ও পরিবহন চার্জ আরো সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

গত চার মাসের ব্যবধানে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার চার্জ বাড়াল অফডকগুলো। দফায় দফায় এই ব্যয় বৃদ্ধিতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের হিসাব মতে, নতুন এই দফায় চার্জ বৃদ্ধির ফলে বছরে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ২১টি অফডক বছরে তিন লাখের বেশি আমদানি কনটেইনার এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করছে। সমুদ্র বন্দরের মূল এলাকার বাইরে অবস্থিত এই কনটেইনার ইয়ার্ডগুলোতে পণ্যের লোডিং-আনলোডিং, স্টোরেজ ও শুল্কায়নের কাজ সম্পন্ন হয়।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানির ধাক্কায় নতুন ট্যারিফ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে গত ১৯ এপ্রিল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই বন্দরকেন্দ্রিক ২১টি বেসরকারি অফডক তাদের সেবামূল্য বাড়িয়ে দেয়।

অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনে নিয়োজিত লরি এবং ডিপোর ভেতরে কনটেইনার ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত ক্রেনসহ সব ভারী যন্ত্রপাতিই ডিজেলচালিত। ২১টি অফডকে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়।

​বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন বিপ্লব বলেন, ‘ডিপোগুলো প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ ডিজেল পোড়ায়। তেলের দাম বাড়ার পর এই বাড়তি খরচ সমন্বয় করা ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত চার মাসে বন্দর ও স্টিভিডোর (জাহাজ থেকে মাল নামানো এবং জাহাজে মাল বোঝাই করার কাজ করে) একবার করে এবং অফডকগুলো দুইবার চার্জ বাড়িয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। এক আমদানিকারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, যার যার মতো করে ইচ্ছামতো চার্জ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বাড়তি চাপের ফলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

​বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছুদিন আগেই বিকডার ট্যারিফ ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এখন তেলের অজুহাতে আরো সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হলো। এই বাড়তি খরচের কারণে আমাদের ট্রেডের ওপর চরম বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাবের শঙ্কায় ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, লজিস্টিক খাতের এই ব্যয় বৃদ্ধির ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট হবে। আমদানীকৃত পণ্যের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার ঘানি টানতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের। এতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আরো বাড়বে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520