Headline :
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম নুরুল এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হামলা হলে সীমাহীন পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম নারায়ণগঞ্জে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন হামে ঝরল আরও ৩ প্রাণ যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, শহরজুড়ে পুলিশের নজরদারি ফের শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে গাজীপুরবাসী ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ

Reporter Name / ৩১৪ Time View
Update : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

পারমাণবিক যুগে পদার্পণের ঐতিহাসিক যাত্রা করল বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সগৌরবে প্রবেশ করল বিশ্বের বুকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে। এ উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ যৌথভাবে বাটন চেপে এই গৌরবময় অভিযাত্রার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং রুশ ফেডারেশনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে কিছুদিন ধরে আমরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কাজ করছি। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব একে উৎপাদনে নিয়ে আসতে বলেছেন। আজ বাংলাদেশ-রাশিয়া উভয় দেশের জন্য ঐতিহাসিক দিন। বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু হলো। ১৯৬৩, ১৯৬৫ এবং ১৯৭৯ সালে বিভিন্ন সময় প্রকল্পের দলিল সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। তবে সে সময় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। যা দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিকে গতি দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ প্রকল্পে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের দীর্ঘ যাত্রার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এই প্রকল্প জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’ রোসাটম-এর মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচভ তাঁর বক্তব্যে জানান, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টরে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রাণ পেল। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল হবে অন্তত ১০০ বছর, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগামী বছর সেখানেও স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। অ্যালেক্সি লিখাচভ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর দলে যোগ দিল যারা টেকসই উন্নয়নের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে। নিঃসন্দেহে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানিব্যবস্থার একটি অন্যতম প্রধান উপাদানে পরিণত হবে। রোসাটম-এর জন্য এই প্রকল্পটি বৈশ্বিক পারমাণবিক শিল্পের উন্নয়ন এবং আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা বাংলাদেশি বন্ধুদেও সঙ্গে একত্রে একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পেরে আনন্দিত।’ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি জানান, আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ফুয়েল লোডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপে যাওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশকে শুভকামনা জানান। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্লিন এনার্জি পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটম ডিজির সৌজন্য সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গতকাল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম-এর মহাপরিচালক (ডিজি) অ্যালেক্সি লিখাচেভ। এ সময় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে রাশিয়ার কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। রোসাটম মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ বাংলাদেশের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের যাত্রায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করার বিষয়েও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category