দৈনিক আয় ১১ লাখ টাকা ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ

Reporter Name / ২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বা টানেল চালুর পর থেকে গত ৯৪৫ দিনে (২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত) মোট যানবাহন চলাচল করেছে ৩৬ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৬টি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার ৮৭৮টি গাড়ি টানেল দিয়ে চলাচল করেছে।

অথচ টানেলের সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, প্রথম বছরে প্রতিদিন গড়ে ১৭ হাজার ২৬০টি; ২০২৫ সালে প্রতিদিন ১৯ হাজার ৬৬৯টি এবং বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৯ হাজার ৬৬৯ থেকে ২৮ হাজার যানবাহন চলাচল করবে। এই হিসাবে কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা থেকে সাত গুণ কম গাড়ি চলছে।

কর্ণফুলী নদীর এক পারে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, অন্য পারে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলা। কিন্তু দেশের অন্যতম বড় এই প্রকল্প থেকে সরকার আশানুরূপ সুফল পাচ্ছে না। প্রতিদিন আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

টানেলসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর টানেলটি উদ্বোধনের পরদিন থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত চলাচলকারী মোট গাড়ি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১০৬ কোটি ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে টানেল থেকে আয় হয়েছে ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ টাকা। প্রত্যাশার চেয়ে বর্তমানে সাত গুণ যানবাহন কম চলাচল করায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে টানেলের রাজস্ব আয়ে।

এ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে চলাচলরত যানবাহন থেকে ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ টাকা আয় হলেও প্রতিদিন গড়ে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৭ লাখ হাজার টাকা। এই হিসাবে টানেল থেকে রাজস্ব আয়ের বিপরীতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ। অর্থাৎ আয়ের চেয়ে প্রতিদিন ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২৬ লাখ টাকা।

কর্ণফুলী টানেলের ব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দৈনিক প্রায় ১৯ হাজার ৬৬৯টি থেকে ২৮ হাজার যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস ছিল। বর্তমানে দৈনিক গড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার যানবাহন টানেল ব্যবহার করছে।

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি সাড়ে তিন গুণ: নাম প্রকাশ না করে টানেল ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা জানান, টানেলে দৈনিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই হিসাবে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে টোল বাবদ এ পর্যন্ত আয়ের তথ্যানুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ টাকা আয় হয়েছে। এতে করে প্রতিবছরে ৯৮ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকা ঘাটতি থাকছে। গাড়ি চলাচল না বাড়লে সামনে টানেল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

ঈদের ছুটিতেও গাড়ি চলাচল বাড়েনি: ঈদুল আজহা উপলকে সাত দিনের সরকারি ছুটিতে কর্ণফুলী টানেলে গাড়ি চলাচল তেমন বাড়েনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ঈদের ছুটি শুরু হলে সড়ক-মহাসড়কে যেখানে হাজার হাজার যানবাহনের চাপ সেখানে টানেলে প্রত্যাশার তুলনায় গাড়ির চলাচল ছিল খুবই কম।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাত দিনে টানেল দিয়ে যানবাহন চলাচল করেছে মোট ৩১ হাজার ৮৮৯টি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে চার হাজার ৫৫৫টি যানবাহন চলাচল করে। একই সময়ে মোট রাজস্ব আয় হয় ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হয়েছে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৩৫ টাকা।

যেসব কারণে টানেলে গাড়ি কম চলে: বিশেষজ্ঞদের মতে, টানেল চালুর পর পর্যায়ক্রমে গাড়ি চলাচল বাড়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু যে হারে গাড়ি চলাচলের কথা ছিল তার চেয়ে অনেক অনেক কম গাড়ি বর্তমানে চলাচল করছে। ভবিষ্যতে যে গাড়ির চলাচল বাড়বে তারও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ টানেল ঘিরে পর্যটন শহর কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প স্থাপনের কথা ছিল তা অদ্যাবধি দৃশ্যমান না হওয়ায় টানেল দিয়ে গাড়ি চলাচল সেভাবে হচ্ছে না।

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ব্যয় বেশি: বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে চীনের দীর্ঘতম হাইওয়ে টাইহু টানেল নির্মাণ শুরু হয়। প্রায় ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের টানেলটি চালু হয় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। টানেলটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫৬ কোটি ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দাঁড়ায় এক হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ভারতের মুম্বাইয়ে মুম্বাই কোস্টাল রোড প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের তলদেশে দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি টানেল নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয় এক হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। কিন্তু কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে মোট ব্যয় প্রায় তিন হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং (বাংলাদেশ সফরকালে) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে এই টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। পরে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছয় হাজার ৭০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520