মুক্তিযুদ্ধের মতো সুরক্ষা থাকবে জুলাই যোদ্ধাদের

Reporter Name / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা থাকবে। সব দলের ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামা মেনে চলবে সরকার। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজাকার হত্যার বিচার যেমন সম্ভব নয়, তেমনি জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে জনগণের প্রতিরোধে যারা নিহত হয়েছেন, তা যুদ্ধের ময়দানের বিচার। গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্থ দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের এ অবস্থান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, গত ১৬ বছর পুলিশ বাহিনীর যারা আইন অমান্য করে যা কিছু করেছে, জুলাইয়ে যারা স্বপ্রণোদিত হয়ে হত্যাযজ্ঞে অংশ নিয়েছে, মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে, এর বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভাগীয় পদক্ষেপ নেবে কি না? আওয়ামী লীগ ‘পুলিশ হত্যার’ নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ আছে কি না? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জুলাইযোদ্ধাদের আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষায় জুলাই জাতীয় সনদে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের ‘জুলাইযোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছে। যা সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি বিল আকারে পাস করাতে একমত হয়েছি। ‘পুলিশ হত্যার বিচার’ হবে বলে সামাজিক মাধ্যমে যে প্রচার রয়েছে তা নাকচ করে সালাহউদ্দিন বলেছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি করছে, সে বিষয়ে আগেও বলেছি, তাহলে তো মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে যারা ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। গণ অভ্যুত্থানের সময় যারা হানাদার বাহিনীর মতো আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছে, কেউ আহত হয়েছে, কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে কেউ হতাহত হয়ে থাকলে এর বিচার হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাযজ্ঞের বিচার হবে ঘোষণা করে তিনি বলেছেন, পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিছু মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এবং কিছু সাধারণ আদালতে রয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবং তার সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে। আদালত স্বাধীনভাবে বিচার পরিচালনা করবে। সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। এ দেশে সব গুম, খুন, হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যার বিচার হবেই। সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতন, নেতা-কর্মীদের ধরে নিয়ে পা ভেঙে ফেলা, অসুস্থ করে দেওয়া এই কালচার ছিল। এরপরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা দেখলাম মব কালচার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এ মবের খপ্পরে পড়ে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন- যেহেতু একটা খারাপ কালচার বাংলাদেশে শুরু হয়েছে এবং আমি নিজেও একুশে ফেব্রুয়ারি সেটার একজন ভুক্তভোগী। সেটা বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে? উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যত পরিসংখ্যান তিনি দিয়েছেন তা আমার কাছে নেই। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি দেড় মাস হয়নি। এর মধ্যে ঠিক মব নয়, মবের মতো, কারণ এখানে ডেফিনেশন আলাদা করতে হবে।

তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং সেটা তদন্ত হয়, গ্রেপ্তার হয় এবং বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়। স্পষ্ট উচ্চারণ আমরা করেছি, দায়িত্ব নেওয়ার পরে বাংলাদেশে কোনো রকমের মব কালচার আর থাকবে না। রাস্তায় যেকোনো দাবি নিয়ে মহাসড়ক সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের যে প্রবণতা ইন্টেরিম গভমেন্টের সময় দেখা গেছে ক্ষেত্রবিশেষে সে গভর্নমেন্টের দুর্বলতার কারণে ইন্সপায়ারড হয়েছে সেটাকে আমরা কখনো অ্যালাউ করব না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি থাকবে। সেই দাবির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে, মন্ত্রণালয়ের কাছে, ডিপার্টমেন্টের কাছে অবশ্যই দাবিনামা স্মারক দেওয়া যাবে। সেজন্য জনমত সৃষ্টির জন্য সেমিনার সিম্পোজিয়াম আয়োজন এবং প্রয়োজনে সেটা একটা জনসমাবেশের মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে।

বিএনপির এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্নে বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলায় নিষ্পত্তি হয়নি। মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেতা-কর্মীদের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করা উচিত। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পুলিশ নির্যাতন করে একজন যুবদল নেতাকে অন্ধ করে দিয়েছে। আরেকজন রাস্তায় নিহত হন। এ মামলায় পুলিশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সব গায়েবি মামলা, মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা, গুম, খুন, অপহরণসহ অনাচার-অবিচার এ দেশের জনগণের ওপর হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনীর কিছু কিছু সদস্য তা করেছে। টাঙ্গাইলের ঘটনাটি দুঃখজনক। মামলা দায়ের করা হয়েছে। অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত নোটিস পেলে অবহিত করতে পারব।

মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেছেন, কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারি দল, বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা কিছু সংখ্যক মামলা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাইবাছাই করে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520