আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ পরিবহণের অনুমতির জন্য আলাদা করে অর্থ নিচ্ছে ইরান। দেশটির এক সংসদ সদস্যের দাবি, এক-একটি জাহাজ হরমুজ পার হচ্ছে ২০ লাখ ডলার ফি দিয়ে। এই অর্থ না দিলে কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতিই দেওয়া হচ্ছে না!
সম্প্রতি ইরানের একটি টিভি চ্যানেলে এ কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান আলায়েদ্দিন বরৌজের্দি। ২০২৪ সাল থেকে তিনি ইরানের পার্লামেন্টেরও সদস্য।
ইরানের এই ২০ লাখ ডলারের দাবি সকল পণ্যবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে কি না, স্পষ্ট নয়। একাংশের দাবি, কিছু জাহাজ থেকে অর্থ তোলা হচ্ছে। যদিও আলায়েদ্দিন নিজের বক্তব্যে তা খোলাসা করেননি।
পণ্যবাহী জাহাজগুলো থেকে অর্থ তোলার এই পদক্ষেপ ইরানের শক্তি এবং হরমুজের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে, দাবি আলায়েদ্দিনের। তিনি বলেছেন, ‘‘যুদ্ধ চলছে। তার একটা খরচ আছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের এটা করতে হচ্ছে। হরমুজ দিয়ে যাওয়া জাহাজের থেকে পরিবহণের খরচ নিতে হচ্ছে। এটা আমাদের শক্তির পরিচয়।”
লন্ডন থেকে পরিচালিত ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল আলায়েদ্দিনের মন্তব্য উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন অভিযোগে ইরানের উপর একাধিক বাণিজ্যি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। যদি জাহাজ পরিবহণের জন্য ইরানকে সত্যিই অর্থ দিতে হয়, তবে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কারণে বিপদে পড়তে হতে পারে যেকোনও দেশকে। তবে হরমুজে অর্থ তোলা নিয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও পক্ষই সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথবাহিনী ইরানের উপর হামলা চালায়। তাতে মৃত্যু হয় সেদেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।। এরপরই ইরান প্রত্যাঘাত শুরু করে। নিশানা করা হয় ইসরায়েল ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সারা বিশ্বের জ্বালানির এক তৃতীয়াংশ পরিবাহিত হয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাধা সৃষ্টি করছে ইরান। হরমুজের পশ্চিম প্রান্তে এখনও কয়েক ডজন জাহাজ আটকে আছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য দাবি করেছেন, শত্রু দেশ ছাড়া আর কারও জন্য হরমুজে কোনও বাধা নেই।