সন্ধ্যা নামলেই শিক্ষার্থীদের আড্ডা বা বাইরে চলাফেরা নিয়ে কড়াকড়ির গুঞ্জনে ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকমহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলায় টিউশনি বা কোচিং শেষ করে ঘরে ফেরার পথে যদি শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা বা গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়, তবে তা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও মানসিক সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শিক্ষাজীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হলো সন্ধ্যার পর প্রাইভেট বা কোচিং শেষ করে নিরাপদে বাড়ি ফেরা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক কারণে যদি সন্ধ্যার পর বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে নজরদারির আওতায় আনা হয়, তবে প্রকৃত শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবে।
একজন শিক্ষার্থী সন্ধ্যাবেলায় টিউশনি শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া বা ভুল বোঝাবুঝির শিকার হওয়াটা তার একাডেমিক পরিবেশকে সরাসরি ব্যাহত করে। আইন প্রয়োগের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানির আশঙ্কা কেবল তাদের স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকারই ক্ষুণ্ন করে না, বরং অভিভাবকদের মধ্যেও প্রতিনিয়ত আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার পদক্ষেপ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুরক্ষা ও মুক্ত চলাচলের পথ অবরুদ্ধ না হয়। নিরাপত্তার নামে যেকোনো নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথেষ্ট সংবেদনশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে পড়াশোনার প্রয়োজনে সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা শঙ্কামুক্ত মনে নিরাপদে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।