ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির হাতছানি

Reporter Name / ১১৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতা, ইউএস-বাংলা বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি, সাবেক রাষ্ট্রদূত অতুল কেশপ। সেই সঙ্গে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে ভিশন রয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়ী নেতা। উল্লেখ্য, অতুল কেশপ ২০১৪ সালেও একবার বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকা সফর করেন। এরপর অবশ্য তিনি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সচিবালয়ে বৈঠক শেষে অতুল কেশপ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সরকারের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমরা সত্যিই আনন্দিত। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি কোম্পানির ৫০ জন ব্যবসায়িক নির্বাহী এ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হতে পেরে মার্কিন কোম্পানিগুলো অত্যন্ত গর্বিত।’

বৈঠকের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে শুনেছি। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার যে লক্ষ্য রয়েছে, আমরা তাতে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি এ দেশের মানুষের যে মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেট সেক্টর বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।’

সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন উল্লেখ করে অতুল কেশপ বলেন, ‘সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো ঠিক রাখার বিষয়ে সরকারের বার্তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা এ ইতিবাচক বার্তাটি যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের কোম্পানিগুলো এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের কাছে পৌঁছে দেব।’ মার্কিন কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও সরকার ও জনগণের সঙ্গে এ অংশীদারি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত। একই সঙ্গে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন, আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। এদিকে অতুল কেশপের সাক্ষাৎকালে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি এবং পরামর্শক সেবার মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সমান সুযোগ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুনাফা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ সহজ করা, অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প পার্ক ও হাইটেক পার্কে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মাহ্দী আমিন। বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাব্য খাত হিসেবে উড়োজাহাজ, জ্বালানি, আইসিটি, বস্ত্র, ওষুধ, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা উল্লেখ করেছেন মাহ্দী আমিন। তাঁর মতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মার্কিন প্রতিনিধিদলটি ১১ আগস্ট ঢাকায় আসে এবং তিন দিনের সফরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পর্যালোচনা করে।

প্রতিনিধিদলটি এ সফরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বব্যসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা যেমন গ্যাস-বিদ্যুতের অপ্রতুলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ব্যাংকঋণের ঋণের উচ্চ সুদ, উচ্চ করপোরেট কর, বন্দর ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কথাও তুলে ধরা হয়। সফর শেষে গতকালই প্রতিনিধিদলটি ঢাকা ত্যাগ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category