Headline :

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে এসেক্সে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

Reporter Name / ২০৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
Screenshot

নিজস্ব সংবাদদাতা:: ইংল্যান্ডের এসেক্স কাউন্টির ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষিকা শালিনা রহমান এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সামিহা রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, যাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই শিশুটি তাঁদের পরিবারেরই সদস্য। বর্তমানে শিশুটি লন্ডনের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শালিনা রহমানের স্বামী মনসুর রহমান যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুবদল ইউকের একজন নেতা। তাঁর বাবা মুজিবুর রহমান দলটির যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

জানা গেছে, গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন শালিনা রহমান। ধারণা করা হচ্ছে, হঠাৎ প্রবল জোয়ারের কারণে পায়ের নিচের বালু সরে গেলে পরিবারের কয়েকজন পানিতে তলিয়ে যান।

বুধবার বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে সিভিউ অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সৈকত থেকে জরুরি সেবায় ফোন করা হলে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে খবর পায় এসেক্স পুলিশ। পরে উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও শালিনা রহমান ও তাঁর মেয়ে সামিহাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের বক্তব্য

তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিসিআই অ্যাল পিচার ঘটনায় মা ও মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে পুলিশ এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মা ও মেয়ে বিপদে পড়া সাত বছর বয়সী শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন। শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ঘটনায় জড়িত সবাই একই পরিবারের সদস্য।

পরিবারের শোক

পরিবারের বন্ধু মিশবা উদ্দিন জানান, শালিনা রহমান ও তাঁর মেয়ে সামিহা কেউই খুব ভালো সাঁতার জানতেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত পরিবারগুলোর একটি পূর্ব লন্ডনের বার্কিং এলাকার বাসিন্দা।

শালিনা রহমানের ভাশুর মতিউর রহমান বিবিসিকে বলেন, পুরো পরিবার গভীর শোক ও হতবিহ্বল অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনার দিন প্রায় ১০ জনের একটি পরিবার কলচেস্টারের সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিল। পানির ধারে শিশুদের খেলাধুলার সময় হঠাৎ একটি বড় ঢেউ এসে সবাইকে বিপদের মুখে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

কলচেস্টার কাউন্সিলের সদস্য কার্ল পাউলিং জানান, কাছের একটি ক্যাফের তিনজন কিশোরী কর্মী উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসেছিলেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত জরুরি সেবায় ফোন করেন এবং পানিতে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক নারী পিএ মিডিয়াকে জানান, প্রবল জোয়ারের সময় একটি ছোট দল বালুচরে আটকা পড়ে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পানি বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

উন্মুক্ত জলাশয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা

ন্যাশনাল ওয়াটার সেফটি ফোরাম-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে অন্তত ২৯ জন দুর্ঘটনাজনিতভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।

যদিও এসেক্সের এই এলাকা প্রবল স্রোতের জন্য পরিচিত, স্থানীয় এমপি বার্নার্ড জেনকিন বিবিসিকে বলেন, ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতকে সাধারণত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সৈকত হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

পুলিশের আহ্বান

ঘটনার সময় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন বা কারও কাছে এ সংক্রান্ত ছবি কিংবা ভিডিও ফুটেজ থাকলে, তাঁদের ১০১ নম্বরে এসেক্স পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনা নম্বর ১০৯০ উল্লেখ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category