Headline :

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

Reporter Name / ১১১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার তিনি বলেন, জাহাজগুলো চলতে শুরু করেছে, অনেকগুলো তেল বোঝাই করে প্রণালি অতিক্রম করছে।ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যাওয়ার পথে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই তথ্য জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, জাহাজগুলো প্রণালির দক্ষিণ দিকের একটি নিরাপদ রুট ধরে চলাচল করছে। এই চলাচলকে তিনি ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত’ বলে উল্লেখ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ওমানের কাছাকাছি একটি সামুদ্রিক পথের কথা বলেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। কারণ এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়।

রবিবার শান্তিচুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে’ সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে এখনো এই শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লিখিত অংশ প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তিটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার জন্য আরও কারিগরি আলোচনা হবে।

ট্রাম্প আরো বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। গত মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গোপনে ২০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে পার হতে সহায়তা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসব জাহাজে ১০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল ছিল।

তবে প্রণালি দিয়ে চলাচলে টোল বা ফি আরোপ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, তাদের প্রত্যাশা হলো—দীর্ঘমেয়াদে টোল ছাড়াই প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত আলোচনায়।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা টোল নয়, বরং সামুদ্রিক সেবার জন্য ফি নিতে পারবে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে কী না—এসব বিষয়ও এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ভ্যান্স বলেন, কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার আগে একটি যাচাই-প্রক্রিয়া থাকবে। ইরান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়তে রাজি হয়, তাহলেই তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category