ফেলে রাখা হয়েছে হাজার কোটি টাকার তেল পাইপলাইন

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং বাংলাদেশে মজুত সক্ষমতা নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন সমুদ্রের বড় জাহাজ থেকে সরাসরি পাইপলাইনে তেল খালাস ও পরিবহন করতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মাণ করা বিশাল অবকাঠামো রীতিমতো অবহেলায় পড়ে রয়েছে।

সিঙ্গেল পয়েন্ট ম্যুরিং বা এসপিএম প্রকল্পে অবকাঠামোর নির্মাণকাজ ২০২৪ সালে শেষ হলেও শুধু অপারেটর নিয়োগ করে সেটি এখনো চালু করা হয়নি। এই অবকাঠামোতে বাংলাদেশের বর্তমান চাহিদার প্রায় এক মাসের ক্রুড অয়েল ও এক সপ্তাহের ডিজেলের মজুত রাখার মতো ছয়টি তেলের ট্যাংক খালি পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা জ্বালানি তেল সরাসরি খালাস করতে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান বয়া, পরিবহনের জন্য ২২০ কিলামিটার পাইপলাইন ও দুই লাখ টন তেলের মজুত রাখার স্টোরেজ ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। সূত্র মতে, এ অবকাঠামো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে সাগরে তেল খালাস ও পরিবহনে বছরে ৮০০ কোটি টাকার মতো সাশ্রয় হতে পারে। এর জন্য সমস্ত অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও শুধু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঠিকাদার নিয়োগ করতে না পারায় বিশাল অবকাঠামো প্রায় দুই বছর ধরে অলস পড়ে আছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান তেল সংকটে এই সময়ে? পাইপলাইনে তেল খালাস করতে পারলে তেল সংকটে সময় এবং অর্থ উভয় সাশ্রয় হতো। একই সঙ্গে তেলের মজুত সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারলে সংকটকালে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেত। সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মাতারবাড়ী থেকে সমুদ্র তলদেশ দিয়ে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পর্যন্ত জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য নির্মিত এই সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম প্রকল্পে অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় এটি চালু করা যাচ্ছে না। প্রকল্পটি কার্যত অলস হয়ে পড়ে আছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সংশ্লিষ্টরা জানান, পৌনে দুই বছর আগে শেষ হয় সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম প্রকল্পের কাজ। কক্সবাজারের মাতারবাড়ী থেকে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) স্টোরেজ ট্যাঙ্ক পর্যন্ত এসেছে পাইপলাইন। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত দুই ধরনের জ্বালানি তেল নিয়ে আসা হবে অয়েল ট্যাঙ্কার থেকে। প্রকল্প কাজ শেষ হওয়ার পর দফায় দফায় পাইপলাইন কমিশনিং করা হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগ নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে অলস হয়ে পড়ে আছে পাইপলাইন যন্ত্রপাতিসহ নানা সরঞ্জাম। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যায়। গত ২ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় আগের অনুমোদিত অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। অপারেটর নিয়োগ শেষ হলেই সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন শুরু হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তেল কোম্পানি পদ্মার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, এসপিএম প্রকল্প এক দিন বন্ধ থাকা মানে বিপুল অর্থের ক্ষতি। এসপিএম প্রকল্প পুরোদমে চালু না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটারিং করে তেল খালাস হচ্ছে। এতে বিপিসির বছরে ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের উদ্যোগ থমকে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণকাজ চলাকালেই যদি অপারেটর নিয়োগসহ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতো, তাহলে প্রকল্পটি চালুর সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেল পরিবহন শুরু করা সম্ভব ছিল। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের অদক্ষতা ও দূরদর্শিতার অভাবে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পটির বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্প্রতি জানান, জনগণের সরকার হিসেবে আমরা জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছি। এ প্রকল্পের বিষয়েও অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এর সুফল পাওয়া যায় তার চেষ্টা করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520