গুলিবিদ্ধদের ইনজেকশন দিয়ে মারতে বলত নেতারা

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

‘গুলি করা হয়েছে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’-চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের সময় হাসপাতালে গিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন এভাবেই চিকিৎসকদের শাসিয়েছেন বলে জবানবন্দিতে দাবি করেছেন একজন সাক্ষী। রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় প্রসিকিউশনের ষষ্ঠ সাক্ষী মো. রুহুল আমিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া জবানবন্দিতে এ দাবি করেন।

রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়ায় একটি বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন রুহুল আমিন। জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, আমি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রামপুরা থানার পাশে মেরাদিয়া কাঁচাবাজারে ছাত্র-আন্দোলন দেখতে যাই। বাজারে যেতেই বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন মিলে ছাত্রদের ওপর গুলি করতে দেখি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে কিছু লোক মারা যান। আহত হন আরও অনেকে। সবাই রক্তাক্ত ছিলেন। এসব দেখে ভয়ে বাসার দিকে রওনা হই। তখন পেছন থেকে আমার কোমরের নিচে একটি গুলি লেগে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ সময় প্যান্ট খুলে নিজের গুলিবিদ্ধের ক্ষতস্থানটি দেখান তিনি।

সাক্ষী আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে আমাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান কিছু লোক। ওই দিন চিকিৎসা হলেও ২০ জুলাই রাতে আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। কারণ ওই দিন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের লোকজন। তারা বলেছিলেন, ‘এদের গুলি করা হয়েছে মরেনি, এদের ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’। এরপর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আমাকে দেওয়া হয়নি। বাসায় ফিরে আসার পর আমার বাসায় আসেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বলা হয়, ‘তুমি গুলি খেয়েছ, এই এলাকায় থাকতে পারবে না’। তবে এলাকার নির্দলীয় একজন আমাকে ভরসা দেন। পরবর্তী সময়ে আমি নিজ খরচে ফরাজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।

নিজে গুলিবিদ্ধ হওয়ার জন্য বিজিবির রেদোয়ান, রাফাত, পুলিশের রাশেদ ও ওসি মশিউরকে দায়ী করেন সাক্ষী। বর্তমানে তার কোনো কাজ করার সক্ষমতা নেই বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জড়িতদের বিচার দাবি করেন এই সাক্ষী।

এ মামলায় মোট আসামি চারজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম। পলাতকরা হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো.

রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520