হরমুজে চীন-ভারত-পাকিস্তানের জাহাজ চলাচল, ইরানের কৌশলী অবস্থান

Reporter Name / ১৭৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মহলে স্বস্তি তৈরি করেছে। জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক উপাত্ত অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় এই সংখ্যা এখনো অনেক কম হলেও চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে।

গত সপ্তাহান্তেই পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে যে, ইরান তাদের পতাকাবাহী ২০টি জাহাজকে এই রুট দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রতিদিন দুটি করে জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করবে। ইরানের এই গঠনমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পাকিস্তান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ ব্যক্তিগতভাবে এই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও এই সুনির্দিষ্ট দাবির ব্যাপারে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মেরিন ট্রাফিক-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুটি বড় চীনা কনটেইনারবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং-এর দিকে রওনা দিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেও বেশ কিছু জাহাজ ইরানের উপকূল ঘেঁষে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভারতও এই পরিস্থিতির সুফল পেতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহান্তে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বোঝাই দুটি বড় ভারতীয় জাহাজ এই পথ দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপিজির ঘাটতি থাকায় এই জাহাজ দুটির নিরাপদে চলাচল দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

মূলত দুই সপ্তাহ আগে ইরান ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তির আলোকেই এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। মেরিন ট্রাফিক-এর বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে একটি সুচিন্তিত কৌশল অবলম্বন করছে। তারা পুরোপুরি পথ বন্ধ না করে বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে।

তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি মিত্রতা নেই এমন দেশগুলোর জন্যই কেবল এই পথ উন্মুক্ত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category