ক্ষমতায় আসলে মামুনুল হককে মন্ত্রী করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

Reporter Name / ৭৫ Time View
Update : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট ক্ষমতায় আসলে মামুনুল হককে মন্ত্রী করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ডা. আমির শফিকুর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসা, সমর্থন, ভোটে ১১ দল বিজয়ী হলে ঢাকা-১৩ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, সারা দেশের মানুষ একজন মর্যাদাবান মন্ত্রী পাবে, যিনি সংসদে গিয়ে শুধু ১৩ আসনের জনগণের কথা বলবেন না, তিনি ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলবেন। আলেম-ওলামাদের পক্ষে কথা বলবেন। আল্লাহর দ্বীনের পক্ষে কথা বলবেন। বেইনসাফের বিরুদ্ধে কথা বলবেন। ইনসাফের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। এমন একজনকে এই আসনের জনগণ বুকের ভালোবাসা দিয়ে আলিঙ্গন করে বিজয়ী করবেন বলে তিনি আশাবাদী।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন। ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি ঢাকা-১১ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী।

জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ১১ দল এবার একত্র হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একত্র হয়েছি জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। আমরা একত্র হয়েছি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। যেই স্বপ্ন এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ এখন লালন করে। আমাদের এই একত্র হওয়া চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ এবং সব ধরনের অপরাধজগতের যারা কারিগর, তাদের বিরুদ্ধে। জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখন জনতারই বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, জুলাইতে যখন আন্দোলন শুরু হয়, তখনো কিন্তু ইন্টারনেট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যাতে অপরাধ গোপন করা যায়, যাতে খুনকে বৈধতা দেওয়া যায়। আবার আমরা দেখতে পাচ্ছি, কার ইশারায় কেন সেই একই অন্ধকার গলিপথে নির্বাচন কমিশন হাঁটার চেষ্টা করছে?’

শফিকুর রহমান বলেন, ইসি ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতর সব ধরনের রেকর্ডিং বা ক্যামেরা, মোবাইল- সবকিছুকে নিষিদ্ধ করতে চাচ্ছে। তারা পরিষ্কার বলে দিতে চান, জুলাইয়ে সেই অপকর্ম যেমন মেনে নেওয়া হয়নি। আজকেও মেনে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না।

একই সমাবেশে নাহিদ ইসলামের ঘোষণা স্মরণ করিয়ে দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যার আগেই যদি এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া না হয়, আগামীকাল নির্বাচন নয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার জন্য যারা জটিলতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে। আর তার সমস্ত দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে পড়ে নাই। তারা এখনো জেগে আছে। তাদের সমস্ত অপকর্ম ইনশাআল্লাহ আমরা প্রতিহত করে দেবো। জনগণের ভোট আবার কেউ ছিনতাই করবেন- এই দুঃসাহস দেখাবেন না। এই দুঃস্বপ্নে ভুগবেন না।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, যদি আবার ফ্যাসিবাদের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়ার কেউ দুঃসাহস করেন, জুলাইতে যেমন ফ্যাসিবাদে রুখে দেওয়া হয়েছে, আগামীতেও রুখে দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520
deneme bonusu veren siteler - canlı bahis siteleri - casino siteleri casino siteleri deneme bonusu veren siteler canlı casino siteleri error code: 520