চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি হাসপাতালগুলো চলছে অবকাঠামোগত অনিয়মের ওপর ভর করেই। আবাসিক বা আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা এবং পার্কিংয়ের স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখার মতো অনিয়মও আছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সরেজমিন পরিদর্শনে এসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা উঠে আসে। এরই মধ্যে সিডিএর চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি টিম নগরের ১৫টি প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। সবগুলো প্রতিষ্ঠানেই অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।
সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অনিয়ম দেখে খারাপই লাগছে। প্রায় কোনোটিরই পর্যাপ্ত পার্কিংব্যবস্থা না রাখা, পার্কিংব্যবস্থা না রেখেই ব্যবসা পরিচালনা করা, নকশাবহির্ভূত ভবন করা-এসব অনিয়ম দেখে অবাক লাগে। ইতোমধ্যে আমরা সরেজমিন অন্তত ১৫টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। সব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম প্রাইভেট ক্লিনিক মালিক সমিতি বলছে, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসাসেবা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে দেওয়া হয়। সীমিত সুযোগসুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। তবে আমরা সিডিএর চেয়ারম্যানের কার্যক্রমকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং নগরকে আরও আধুনিক, পরিকল্পিত ও নান্দনিক হিসেবে গড়তে আমরাও সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’
বেসরকারি হাসপাতালে যত অনিয়ম : গত ৩০ জুলাই নগরের বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতাল, ম্যাক্স হাসপাতাল, এরিস্ট্রোকেয়ার হাসপাতাল, এপিক হেলথ কেয়ারের তিনটি শাখা এবং পপুলার হাসপাতাল পরিদর্শন করে। পরিদর্শন টিম দেখতে পায়-ন্যাশনাল হাসপাতালে আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করা, অনুমোদিত নকশায় ৫০টি পার্কিং দেখানো হলেও বাস্তবে মাত্র ২৮টির অস্তিত্ব পাওয়া, পার্কিং এলাকায় ওয়াশিং প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অপ্রতুল পাওয়া ও একমাত্র জরুরি ফায়ার সিঁড়িতে ময়লার স্তূপ দেখা। এসব সমস্যা সংশোধনে এক মাস সময় দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।