যুক্তরাষ্ট্র চলমান বিমান হামলার মধ্য দিয়েই কি তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানে সীমিত পরিসরে কোনো স্থল আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে? সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সামরিক অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই প্রশ্নটি এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর আগে গত জুন মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও তা বেশি দিন টেকেনি। জুলাই মাসের শুরু থেকেই ওয়াশিংটন নতুন করে তেহরানের ওপর হামলা শুরু করে, যার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। এরপর থেকেই সংঘাতের রূপ বদলে গেছে।
প্রাথমিকভাবে যুদ্ধটি হরমুজ প্রণালি ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তা দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানের পরিবহন নেটওয়ার্ক, বন্দর, রেলপথ এবং সাঁজোয়া ডিভিশনের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খুজেস্তান, বুশেহর, হোরমোজগান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান; এই চার খনিজ ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের ওপর লাগাতার হামলা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু জলপথ অবরোধের কৌশল যথেষ্ট না হওয়ায় এখন এই প্রদেশগুলোর সঙ্গে মধ্য ইরানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ইরানি পক্ষ ও আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ কোনো দখলদারিত্বের জন্য পর্যাপ্ত সেনা মার্কিন বাহিনীর হাতে নেই।
ইরানের ৮ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে এই বিশাল ভূখণ্ডে পূর্ণ সামরিক দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ১৭ লক্ষাধিক সেনার প্রয়োজন, যা মার্কিন মোট সক্রিয় সেনার চেয়েও বেশি। এমনকি কুয়েত বা অন্যান্য অঞ্চলে সামান্য কিছু সেনা বাড়ানো হলেও তা সীমিত কোনো উপকূলীয় বা দ্বীপাঞ্চল দখল অভিযানের চেয়ে বেশি কিছু নয়।
ইতিমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তেহরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো স্থল আগ্রাসনের দুঃসাহস দেখায়, তবে তা হবে তাদের জন্য এক বিরাট বিপর্যয়। ইরানি বাহিনী এই ধরনের যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক গভীরতা ও সরবরাহ লাইনগুলোতে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে, পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের সম্ভাবনা কম থাকলেও সীমিত কোনো স্থল অনুপ্রবেশের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।