ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতির নানা খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে কিছু দেশ ইতোমধ্যেই বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন।
বিশেষ করে ইউরোপের বড় অর্থনীতির দেশগুলো নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে। জার্মানির মতো শিল্পনির্ভর দেশে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতালিতেও তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেশি। আর ব্রিটেন গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জ্বালানি মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে জাপান চাহিদার প্রায় পুরো তেলই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যার বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। ফলে এ রুটে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে দেশটির অর্থনীতি সরাসরি চাপে পড়বে। একইভাবে ভারতও তেল ও এলপিজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমছে এবং মুদ্রার মানও ক্রমাগত কমছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও ঝুঁকির বাইরে নয়। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে কুয়েত, কাতার, বাহরাইনের মতো দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মিশর। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এসব দেশে ইতোমধ্যে নানা কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক ঋণের চাপ তাদের অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।