এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল চ্যালেঞ্জ বা পুনর্নিরীক্ষণে এবার রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। এ বছর নির্ধারিত সময়ে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র বা খাতা পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর আয় হয়েছে সাড়ে ১৫ কোটিরও বেশি টাকা।
আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, গত ১ নভেম্বর থেকে এইচএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। এ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ৮টায়। নির্ধারিত সময়ে পুনর্নিরীক্ষণে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।
তাদের একেকজন একাধিক বিষয় ও পত্রের পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি।
এদিকে, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি পত্র বা খাতা পুনর্নিরীক্ষণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী ফল পুনর্নিরীক্ষণ আবেদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলো সরাসরি ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকা আয় করেছে।
আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘পুনর্নিরীক্ষণের জন্য টেকনিক্যাল কিছু কাজ রয়েছে। বুয়েট কারিগরি টিম কাজ করে থাকে। এতে ব্যয় রয়েছে। পাশাপাশি পুনর্নিরীক্ষণের জন্য নতুন করে পরীক্ষক নিয়োগ করতে হয়। তারা বোর্ডে বসেই খাতা দেখেন। তাদের খাতাপ্রতি ফি পরিশোধ করা হয়। সবমিলিয়ে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যায়। পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন থেকে বোর্ড মুনাফা করে না।
এদিকে, পুনর্নিরীক্ষণ আবেদনের শেষ সময়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সার্ভার ডাউন থাকায় আবেদনে কিছুটা ঝামেলা পোহাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেনি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবেদনের সময় কিছুটা বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা সময় বাড়াতে পারি।’
গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। এ পরীক্ষায় মোট ফেল করেছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ২২ শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন। বিগত ২২ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন ফল।
অন্যদিকে এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের ফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্ত শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু।v