বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আবারও উত্তাল গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা। এতে মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় বিজিবি ও বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
সোমবার(০২নভেম্বর) সকালেও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন পোশাকশ্রমিকরা। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কয়েক দিন ধরেই গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চলছে শ্রমিক অসন্তোষ।
শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আটকে পড়েন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে কর্মজীবী মানুষ, যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় ১০ প্লাটুন বিজিবি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এর আগে রোববারও চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শিল্পাঞ্চল। এ সময় একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গুদাম ও পুলিশের একটি ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দিনভর অস্থিরতায় অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয় মহাসড়কে যান চলাচল।
শ্রমিক অসন্তোষের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বারবার সড়ক অবরোধে বিপর্যস্ত হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দাবি আদায় ও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে শ্রমিক, মালিকপক্ষ এবং প্রশাসনের কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান সংশ্লিষ্টদের।