বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন নারীসহ বারে যাওয়া আসার ভিডিও ভাইরাল হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুল হক দিদার চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার ভিডিও ধারণ করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার কারণেই তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত এবং এর নেপথ্য রহস্য কী, তা উদ্ঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি বলে আদালতকে জানান তিনি। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামini আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ডের তীব্র বিরোধিতা করে জামিন আবেদন বাতিল চান। আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, "ভিকটিমের সাথে আসামির ৬ বছরের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ভিকটিমের বাবাও প্রাথমিক মামলায় তাকে সরাসরি দায়ী করেননি। এছাড়া বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ কেন গভীর রাতে মাদক আস্তানায় যাবেন, তা বোধগম্য নয়। তা ছাড়া তিনি প্রথম থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দীপকে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় দীপ উপস্থিত এক স্বজনকে উদ্দেশ করে নিজেকে "ফুললি স্ট্রং" দাবি করেন এবং দুশ্চিন্তা না করার কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ঘটনার দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের নম্বরপ্লেটহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, দুজনে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার শেষ করে মধ্যরাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার একটি ‘মাদক স্পটে’ গিয়েছিলেন।
নিখোঁজের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে উপস্থিত থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল পিবিআই। দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। গভীর রাতে ওই দুর্গম এলাকায় অবস্থানকালে পুলিশের তাড়া খেয়ে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেছিলেন দীপ। পরবর্তীতে গত শুক্রবার রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করার পর দীপকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং জলসীমানা ও মামলার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে পিবিআই থেকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।