যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে স্থানীয় সময় সোমবার আলোচনা শুরু হবে। অন্যদিকে ইরান এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে। সূত্র : রয়টার্স, মেহের নিউজ এজেন্সি
গতকাল সাপ্তাহিক ছুটি শেষে নিউজার্সি থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরে ট্রাম্প ইরানকে উল্লেখ করে ঘোষণা দেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা সোমবার বিকালে শুরু হবে।’ এর এক দিন আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলতে ও তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে চলমান অচলাবস্থা কাটাতে তিনি ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছার আশায় ‘আসন্ন একটি পরিকল্পিত সামরিক হামলা’ বাতিল করেছেন। এদিকে ট্রাম্প সোমবার আলোচনায় বসার কথা বললেও কোথায় এ আলোচনা হবে বা কারা তাতে অংশ নেবেন, সেসব কিছুই বলেননি। একটি চুক্তিতে আসতে ইরানের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নেও সরাসরি কোনো জবাব দিতে রাজি হননি ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেন, ‘আমি কাউকে হত্যা করতে চাই না কারণ মানুষ মারা যায়, অনেক মানুষ মারা যায় আর আমরা তা চাই না।’
এদিকে তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং দুই দেশের মধ্যে বৈঠকেরও কোনো সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও ট্রাম্পের ‘আলোচনা শুরু’র ঘোষণার বিষয়টি নাকচ করে বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো আলোচনা চলছে না। বর্তমানে শুধু ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েই আলোচনা হচ্ছে। ওমানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো তৃতীয় পক্ষ নেই। যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত বিষয় এবং ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রশ্নে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরে বিবেচনা করা হবে।’
ট্রাম্পকে নতিস্বীকার করাতে ইরানের নতুন কৌশল : মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য পথ, নৌপথ এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সংঘাতের মূল্য বাড়াতে চাইছে ইরান। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের মাইকেল নাইটস জানান, সরাসরি সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ইরান সংঘাত বাড়িয়ে মার্কিন মিত্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে কোণঠাসা করার কৌশল বেছে নিয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত, তার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোকেও এখন হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের এক সূত্রের মতে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডাররা মনে করছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়াতে চান না। তাই চাপ বাড়ালে ট্রাম্প নতিস্বীকার করতে বাধ্য হবেন, যদিও ট্রাম্প ভাবছেন হামলার ভয় দেখিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের মাইকেল সিংয়ের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই তেহরানের এই প্রয়াস। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আয়ার বলেন, মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া ও হামলা বন্ধ করতেই ইরান প্রতিরক্ষামূলক পাল্টা কৌশল নিচ্ছে।