নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ভারতের ছাত্র আন্দোলন রাজধানী দিল্লি থেকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য শহরে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আজ গোটা ভারতে প্রতিবাদ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এদিকে এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকারও নমনীয় হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে গত বুধবার দিনগত রাতে মূল প্রতিবাদস্থল দিল্লির যন্তরমন্তরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকরাীদের নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দিল্লির আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। দেশের অনেক শহরেই আন্দোলনের সমর্থনে ছাত্ররা বিক্ষোভ করছে। কলকাতা প্রতিনিধি জানান, দিল্লির আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে গতকাল কলকাতায় মিছিল করেছে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাসের ক্যাম্পাস থেকে ‘মহা মিছিল সংহতি সভা’ শীর্ষক একটি ব্যানারকে সামনে রেখে মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিল থেকেই যেমন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি জানানো হয়, এসঙ্গে ‘ওই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ‘নরেন্দ্র মোদি হায় হায়, বিজেপি হায় হায়’ বিজেপি সরকার গো ব্যাক’ স্লোগানও তোলা হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়েছে, ভারতজুড়ে পুলিশি সহিংসতার শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে আজ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একবার্তায় এ কর্মসূচির কথা প্রচার করা হয়।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর ও দ্রুততম শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত সাজা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ অন্যদিকে মোদির আশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে সিজেপি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
পরে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চারবার সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার দরজা সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় খোলা রয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদির ঘোষণার কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদিই আসলে দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং গত ২০ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরেন।
যন্তরমন্তরে সংঘর্ষ : দিল্লির যন্তরমন্তরে বুধবার দিনগত রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় দুজন এসিপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
এদিকে পুলিশের ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক উত্তেজিত প্রতিবাদকারী স্লোগান দিচ্ছে ও পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানোর ডাক দিচ্ছে। অন্তত একজন নিরাপত্তা সদস্যকে ঘিরে ফেলে দলবেঁধে পেটানোর দৃশ্যও দেখা গেছে।
যন্তরমন্তরে ইন্টারনেট বন্ধ : আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যন্তরমন্তর এলাকার দেড় কিলোমিটার জুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, গতকাল সকাল পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ ছিল।