যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযানের কথা ভাবছেন। তিনি নতুন করে বিমান হামলা এবং হরমুজ প্রণালির কাছের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোতে মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন।
মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি একটি জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স পাহাড়’-এ বোমা হামলার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বুধবার আরও দুই দফা বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিন বেশ কয়েকটি জাহাজকে ইরানের উপকূলে যেতে বাধা দেওয়া হয়। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপের দিকে যেতে থাকা একটি জাহাজকে সতর্ক করার পরও ফিরে না যাওয়ায় সেটিতে ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে মার্কিন বাহিনী। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর টানা পঞ্চম দিনের মতো এই হামলা চলল।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে। তবে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়তে রাজি না হওয়ায় আলোচনা আটকে আছে। তাই ইরানকে চাপে ফেলতেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার করছে।
সামরিক এই চাপের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হলো ‘পিকঅ্যাক্স পাহাড়’। এই পাহাড়ের ভেতরে গ্রানাইট পাথরের ৩০০ থেকে ৪৭৫ ফুট গভীরে সুড়ঙ্গ রয়েছে। সেখানে বাঙ্কার-বিধ্বংসী বোমা দিয়েও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো কঠিন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তাদের বোমা অনেক গভীরে গিয়েও আঘাত হানতে পারে।
অন্যদিকে, খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালির অন্যান্য দ্বীপ দখল করলে ইরানের তেল রপ্তানি বড় ধাক্কা খাবে। এটি ভবিষ্যতের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপে মার্কিন সেনারা সরাসরি বিপদে পড়বেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।