বিশ্বকাপের উদ্বোধীন ম্যাচে ম্যাচে হেসেখেলে জিতেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। ৩ লাল কার্ডের ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে তারা। এর মধ্যে দিয়ে প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শুরু করল স্বাগতিকরা। দর্শক মাতানো পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটিই হয়ে উঠেছে নাটকীয়তায় ভরপুর।
মেক্সিকো সিটির আসতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল মেক্সিকোর। আক্রমণে চেপে ধরে নবম মিনিটে প্রথম গোল আদায় করে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল জিমিনেজ। ম্যাচের বাকিটা সময় আরও কিছু সুযোগ কাজে লাগালে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দেয়ার মতো কোনো আক্রমণই করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। বল দখল, আক্রমণ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল মেক্সিকোর। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় হাইলাইট ছিল ৩ লাল কার্ড। দুই দল মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই লাল কার্ড দেখেছেন ৩ জন। ম্যাচের ৯ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। ৪৯ ও ৮৪ মিনিটে দুই লাল কার্ড দেখে ৯ জনের দল হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে যোগ করা সময়ে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে, পুরো ম্যাচের ৬১ শতাংশ বল দখলে ছিল মেক্সিকোর, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার পায়ে ছিল ৩৯ শতাংশ। গোলে শট এবং অন টার্গেট শট সবকিছুতেই যোজন যোজন এগিয়ে মেক্সিকো। মেক্সিকো শট নিয়েছে ১৫টি, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪টি। লক্ষ্য বরাবর মেক্সিকোর শট ছিল ৫টি, আফ্রিকার ৩টি।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের বিশ্বকাপে জোহানেসবার্গে এই দুই দলের লড়াই ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ। সেই লড়াই ১-১ ড্র হয়েছিল। কিন্তু আসতেকায় ইতিহাস উল্টে গেছে। জয়ের আনন্দ মেক্সিকোর জন্য কিছুটা ম্লান হয়েছে, মোন্তেসের লাল কার্ডের কারণে।