রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার রায় আগামী রবিবার ঘোষণা করা হবে। গতকাল ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। ঘটনার ১৯ দিনেই চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিরা কীভাবে অভিযুক্ত, সাক্ষীরা আসামিদের সম্পর্কে কী বলেছেন এবং আইনের বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত ও রেফারেন্স তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু আসামি সোহেলের জবানবন্দির বিষয়গুলো উল্লেখ করে জানান, গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
রামিসাকে গত ১৯ মে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তিনি ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন এবং নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন পাশের বাসার সাত বছরের শিশু রামিসাকে বাসার বাইরে দেখতে পেয়ে ডেকে নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে জোর করে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় রামিসা চিৎকার শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে ওড়না বেঁধে ধর্ষণ করেন। জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ধর্ষণের পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মৃত মনে করেন সোহেল। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে কক্ষ থেকে একটি ছুরি এনে শিশুটির মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। হাতও বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির মা তাকে খুঁজতে খুঁজতে ঘটনাস্থলের বাইরে এসে ডাকাডাকি শুরু করেন। এতে ভয় পেয়ে সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। এরপর তিনি আদালতে বলেন, সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। বিধায় তিনি আদালতের কাছে আসামিদের আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেন। এদিকে আসামিপক্ষের বিশেষ আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ আদালতে বলেন, আসামি ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন, আদালতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন প্রার্থনা করছি। আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্ত্রী স্বপ্নার নাম বলেননি। ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে লাশ গুম করার ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এজন্য আদালতে ২০১ ধারায় তার শাস্তি প্রার্থনা করছি। মামলার যুক্তিতর্ক শুনতে গতকাল সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক সাধারণ আইনজীবী ও মিডিয়াকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। গত বুধবার মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সকালেই আদালতে হাজির করা হয়। ২ জুন মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেন আদালত।