নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কারামুক্তি পেয়ে নিজ বাসায় এসে উঠেছেন। বুধবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারামুক্তি লাভ করে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসায় আসেন তিনি।
এসময় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই সকলকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। আমার মতো আরও অনেক নিরপরাধ মায়েরা আছে; আশা করি সরকার তাদের প্রতি সদয় হবে।
এদিকে আইভীর আইনজীবি অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, বুধবার বিকেলে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। খবর পেয়ে আমি ও তার পরিবারের লোকজন আসি। সেই সাথে রাত দশটায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২ টি মামলার জামিন বহাল রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ যে অর্ডার দিয়েছে সেগুলি নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আসে। যেদিন এটি নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসে একই দিন ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন চেয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আরেকটি আবেদন করি। ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের কাগজ কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এর মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ জামিনের কাগজ কাশিমপুর পৌছেছে।
এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আবারও আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর আরও দুইটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর এসকল মামলা তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কারাভোগ করছেন।
সম্প্রতি হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে মোট ১২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল রয়েছে এবং তাঁর কারামুক্তিতে এখন আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা।
প্রসঙ্গত, ২০০৩-২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে টানা জয়ী হন তিনি।