হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সব সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বুধবার মধ্যরাতের মধ্যে ইরানের প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। তার ভাষায়, সব বিদ্যুৎকেন্দ্র আগুনে পুড়ে, বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আর কখনো ব্যবহারযোগ্য থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, চাইলে এই পুরো অভিযান মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে একইসঙ্গে যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি চায় না।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। অন্যথায় ‘নরক’ দেখানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এদিকে, ইউনিভার্সিটি অব আমস্টারডাম-এর আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মারিকে ডে হুন এ ধরনের বক্তব্যকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধের ঘোষণা বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোকে কোনোভাবেই বৈধ বলা যায় না। তার মতে, পুরো একটি দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার ভাষা সরাসরি বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দেয় এবং এটি প্রকাশ্য যুদ্ধাপরাধের হুমকি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশকারীদের জীবন রক্ষা না করার নীতি (‘নো কোয়ার্টার’ নামে পরিচিত)আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ। পাশাপাশি, ইরানের পক্ষ থেকে বেসামরিক এলাকায় ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহারের অভিযোগও যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলে তিনি মত দেন।