ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি যাচ্ছে মানুষ। কয়েক দিন ধরেই চলছে ঈদযাত্রা। শেষ সময়ে রাজধানীর টার্মিনালগুলোতে রয়েছে মানুষের ভিড়। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছাড়ছে ট্রেনগুলো। তবে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও গাজীপুর-চন্দ্রা সড়কে যানজট রয়েছে। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। এ ছাড়া চন্দ্রা-বগুড়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছে মানুষ।
ট্রেনে নেই শিডিউল বিপর্যয় : কমলাপুর ট্রেন স্টেশনে ভিড় সামলাতে কিছুটা বেগ পেতে হলেও এখন পর্যন্ত কোনো শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। নির্ধারিত সময়েই ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। সাময়িক বন্ধ হয়ে যায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ।
গতকাল স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, টিকিট কাউন্টারের সামনে ভিড়, প্ল্যাটফর্মে পরিবার-পরিজন নিয়ে অপেক্ষা; সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর কিন্তু ব্যস্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই স্টেশনে এসে অবস্থান নিয়েছেন, যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়া ট্রেনে উঠতে পারেন। জানা গেছে, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বেনাপোলগামী রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের পর জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস, নকশিকাঁথা, অগ্নিবীণা, রাজশাহী কমিউটার, নারায়ণগঞ্জ কমিউটার, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ বেশ কিছু ট্রেন একের পর এক ঢাকা ছেড়ে গেছে। সিলেটগামী যাত্রী তাসনিম শুভ্রা বলেন, ঈদের সময় ট্রেন মিস হওয়ার ভয় থাকে। তাই আগেই চলে এসেছি। ভিড় অনেক বেশি, তবে পরিবেশ ভালো লাগছে। আশা করি কোনো ঝামেলা ছাড়াই বাড়িতে যেতে পারব। খুলনাগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, শেষ সময়ে টিকিট পাওয়া কঠিন ছিল। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখনো আগেভাগেই চলে আসছি। স্টেশনে ভিড় থাকলেও সবাই মোটামুটি শৃঙ্খলার মধ্যে আছে। বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গে ঈদযাত্রা উপভোগ করছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
টঙ্গী-গাজীপুর-চন্দ্রা সড়কে যানজট : ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশপথ চন্দ্রায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ও যানবাহন বাড়ায় জটলা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৮ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চন্দ্রা বাস টার্মিনালের শেষ প্রান্ত খাড়াজোড়া এলাকায় সড়কের ওপর যানবাহন থামিয়ে যাত্রী উঠাচ্ছে পরিবহনগুলো। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর আনসার একাডেমি এলাকা থেকে চন্দ্রার উড়ালসড়ক পর্যন্ত মোট ৮ কিলোমিটার অংশে যানবাহন থেমে থেমে চলছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। নাবিল পরিবহন বাসের চালক মুস্তফা মিয়া বলেন, পুরো সড়কে কোনো যানজট নেই। শুধু চন্দ্রা আসতে গেলেই জ্যাম ঠেলতে হয়। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করে তাহলে অনেকটা শৃঙ্খলার সঙ্গে বাসগুলো যাত্রী উঠাতে পারে। তাহলে আর এই জ্যাম থাকবে না।
কয়েকজন যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের অন্যান্য স্থান ফাঁকা থাকলেও চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছাতে গেলেই যানজটে পড়তে হচ্ছে তাদের। এতে অনেকটা সময় ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে ভোগান্তি। একই অবস্থা গাবতলী থেকে চন্দ্রা সড়কেও। এ ছাড়া টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কটিতে রয়েছে যানজট। ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।